বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্ট বা তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করে এক গুরুত্বপূর্ণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বার কাউন্সিলের সচিব বিচারক মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা সর্বসাধারণ ও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাধারণ সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এই নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মূলত দেশের আইনি পেশার গুণগত মান বৃদ্ধি, তরুণ ও উদীয়মান আইনি মেধার সঠিক বিকাশ এবং উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রার্থীদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৩৫ বছর সুনির্দিষ্টভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমানে আইন বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিশেষভাবে মাথায় রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ল কলেজে এলএলবি (LL.B) ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত আছেন, তাঁদের শিক্ষা জীবন ও কর্মসংস্থানের সুযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে না। নির্ধারিত এই সর্বোচ্চ ৩৫ বছর বয়সসীমার নিয়মটি আগামী ১ জানুয়ারি ২০৩০ তারিখ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। ফলে বর্তমানে অধ্যয়নরত বা সদ্য উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুবিধা পাবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন ও চূড়ান্ত তালিকাভুক্তির সমস্ত আবেদনপত্র গ্রহণ, প্রার্থীদের শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাইকরণ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইস্যু এবং এনরোলমেন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত এই ৩৫ বছরের নতুন বয়সসীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আইন পেশায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং আইনি সেবার সার্বিক মানোন্নয়নে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
