নারী ক্রিকেট: দুই সংস্করণে দুই অধিনায়ক, কী ভাবছে বিসিবি

খেলা স্পেশাল

বাংলাদেশ নারী জাতীয় ক্রিকেট দলে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণে দুই ভিন্ন অধিনায়কের অধীনে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল। এতদিন ধরে দুই সংস্করণেরই দলনেতা ছিলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের আলোকে টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে স্পিনার নাহিদা আক্তারের কাঁধে, তবে ওয়ানডেতে পূর্বের ন্যায় বহাল থাকছেন জ্যোতিই।

হঠাৎ করে নেতৃত্ব বিভাজন করায় দলের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়ায় কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে কি না—তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও বিসিবি জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন এই ব্যবস্থায় ড্রেসিংরুমের পরিবেশ খারাপ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বিষয়টিকে আমরা খুব ইতিবাচকভাবেই দেখছি। জ্যোতি টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর এই সংস্করণের জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল। ওয়ানডেতে জ্যোতি তার দায়িত্ব পালন করে যাবে। ফলে ড্রেসিংরুমে ক্ষতিকর কোনো প্রভাব পড়বে বলে আমরা মনে করি না।”

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে দলের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার পর, জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস শেষে টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন জ্যোতি। সফর শেষে দেশে ফেরার পর ক্রিকেট বোর্ড তাঁর সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর পরেই বাঁহাতি স্পিনার নাহিদাকে আগামী এক বছরের জন্য সংক্ষিপ্ত সংস্করণের নেতৃত্ব অর্পণ করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে উভয় সংস্করণেই দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন নাহিদা।

নাহিদাকে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনের কারণ তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম বলেন, “সামনেই থাইল্যান্ডে ইমার্জিং নেশনস কাপের খেলা রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে একজনকে টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব দিতে হতো। নাহিদা দীর্ঘদিন ধরে সহ-অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেই দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে।”

সিদ্ধান্তটি কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিষয় নয় উল্লেখ করে বিসিবির এই কর্মকর্তা জানান, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে জ্যোতি এবং নাহিদা দুজনের সঙ্গেই খোলামেলা কথা বলা হয়েছে। রফিকুল বলেন, “জাপান থেকে ফেরার পরই জ্যোতির মানসিকতা আমরা জেনেছিলাম। এবারও চূড়ান্ত ঘোষণার আগে জ্যোতি ও নাহিদা দুজনের সঙ্গেই ফোনে কথা বলেছি। তারা দুজনই বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণভাবে গ্রহণ করেছে। তাই মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে দল হিসেবে কাজ করতে কোনো বাধা আসবে না।”

আগামী ১২ নভেম্বর থাইল্যান্ডের মাঠে পর্দা উঠবে ‘আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি’র। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমেই শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নাহিদা আক্তারের নেতৃত্ব দেওয়ার নতুন সফর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *