ইসরায়েলগামী সেই বিমান নিয়ে চাঞ্চল্যকর যেসব তথ্য জানা গেল

আন্তর্জাতিক স্লাইড

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেছেন। মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ইসরায়েলগামী একটি বিমান সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

এ ঘটনার পর ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে সৌদি আরবে ইসরায়েলি বিমান পাঠানোর অনুরোধ করে দখলদার ইহুদিবাদী দেশটি। তবে সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলের একজন কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।

বিমানটি সৌদি আরবে অবতরণ করার পর সেখানে আটকা পড়েন যাত্রীরা। তাদের ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েল সরকার সামরিক কিংবা বেসামরিক যেকোনো একটি বিমান সৌদি আরবে পাঠানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছিল বলে জানিয়েছিলেন ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

তবে পরে সৌদি আরব ইসরায়েলি বিমানকে যাত্রী সংগ্রহের জন্য দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি বলে ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান। সৌদি আরবের বিমান চলাচল খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ক্লাস্টার২ এর আগে জানিয়েছিল, সকালের ওই ঘটনার পর যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে একটি বিকল্প বিমান পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সমন্বয় করা হচ্ছে।

তবে সেই বিকল্প বিমানটি কিভাবে এবং কোন সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এদিকে ইসরায়েলি বিমানকে সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনএন। ইসরায়েলি বিমানকে সৌদি আরবে যাত্রী নেওয়ার জন্য অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।

যদিও সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা বিভিন্ন সময়ে হলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে রূপ নেয়নি। ২০২২ সালের আগে ইসরায়েলি বিমান সংস্থার উড়োজাহাজ এবং ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের জন্য সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগও ছিল না। পরে সৌদি আরব আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করে। তবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় সৌদি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি কোনো বিমান অবতরণ করে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল।

এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, যাত্রীরা একটি ‘বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করেছেন’। এ সময় যাত্রীদের ‘বীর’ বলে আখ্যা দেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ফ্লাইট চলাকালীন বিমানটি যখন দেশের (ইসরায়েল) কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন এবং দৃশ্যত যাত্রীবাহী বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।’

প্রসঙ্গত, ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিব যাওয়ার পথে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। প্রাথমিকভাবে বিমানটিতে ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এবং এ কারণে ইসরায়েল যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠিয়েছিল। তবে পরে ছিনতাইয়ের আশঙ্কা নাকচ করা হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের দুই পাইলটের মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে ককপিটে শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যাত্রীদের কয়েকজনও ককপিটের দিক থেকে চিৎকারের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।

তবে পাইলটদের কথিত সংঘর্ষের বিষয়টি এখনো ফ্লাইদুবাই কিংবা সৌদি, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানটি উড্ডয়নের সময় একটি ‘ঘটনার’ মুখে পড়েছিল এবং পরে নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করে। বিমানের সব যাত্রী নিরাপদে আছেন এবং তাদের হিসাব নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।

এদিকে, সৌদি আরবে আটকা পড়া এসব যাত্রীকে ফিরিয়ে নিতে ইতিমধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন ফ্লাইটের যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনেরা। তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, অধিকাংশ যাত্রীকে দেশে ফিরিয়ে নিতে তাবুক বিমানবন্দরে পাঠানো বিকল্প ফ্লাইদুবাই বিমানে ইতিমধ্যে তারা উঠেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *