সবশেষ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরেছে আর্জেন্টিনা। তবে সে ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনা যেন পিছু ছাড়ছে না আলবিসেলেস্তেদের। বর্ণবাদী ও আপত্তিকর গালিগালাজ থেকে শুরু করে শারীরিক সংঘর্ষ— টুর্নামেন্টজুড়ে নানা ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। এসব শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় এবার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়েছে বেশ কয়েকটি পক্ষ। তাদের মধ্যে রয়েছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেস এবং দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও। শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) মোট ৩ লাখ ২১ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ফিফার শৃঙ্খলাবিধির একাধিক ধারা ভঙ্গের অভিযোগে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
এএফএ’র বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং সমর্থকর্দের বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ম্যাচ চলাকালে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টিও শাস্তির আওতায় এসেছে।
শুধু জরিমানাতেই থামেনি ফিফার শাস্তি। সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গির ঘটনায় ফিফা শৃঙ্খলাবিধির ১৫ নম্বর ধারা ভঙ্গের দায়ে এএফএ’র পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচে গ্যালারির ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ দর্শক উপস্থিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ যেমন উঠেছিল, তেমনি দলটির কয়েকজন খেলোয়াড়ও বিতর্কে জড়ান। সেমিফাইনালের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে একটি ব্যানার হাতে দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’— অর্থাৎ মালভিনাস আর্জেন্টিনার। দক্ষিণ আটলান্টিকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা মালভিনাস নামে দাবি করে থাকে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া হাতাহাতির ঘটনাও ফিফার শাস্তির আওতায় এসেছে। ম্যাচের পর স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার, যার মধ্যে ছিলেন লিয়েন্দ্রো পারেদেস। ওই ঘটনায় স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিও জড়িয়ে পড়েন। পরে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও দলের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক জরিমানা করা হয়।
শাস্তির তালিকায় আর্জেন্টিনার পারেদেসকে সবচেয়ে বড় সাজা দেওয়া হয়েছে। তাকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৯০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। নাহুয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ নিষিদ্ধ করে ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। থিয়াগো আলমাদা পেয়েছেন এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা।
দলের কর্মকর্তা রবার্তো আয়ালাকেও ছাড় দেয়নি ফিফা। তাকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনের পাবলো মার্তিন পায়েজ গাভিরা, যিনি গাভি নামে পরিচিত, এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা পেয়েছেন।
