মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। রোববার (৮ নভেম্বর) রিয়াদ শহরজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, তারা সময়মতো হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিকট শব্দে বিকট বিস্ফোরণ ঘটার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে রিয়াদ ও এর আশপাশের এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে আপাতত বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে এবং আকাশসীমা নিরাপদ রয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট আরও জানিয়েছে, শুধু এই দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই নয়; বরং রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের স্পর্শকাতর এলাকা লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া আরও দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও মাঝআকাশে ধ্বংস করা হয়েছে।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর ফলে অঞ্চলে সাময়িক শান্তি বজায় থাকলেও গত জুলাই মাস থেকে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত পুনরায় চরম আকার ধারণ করে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে হুতি বিদ্রোহীরা নিয়মিত বিরতিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং কৌশলগত তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। জবাবে সৌদি জোটও ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হুতিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।
সর্বশেষ রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী। এই ঘটনার ঠিক আগেই ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, রাজধানী সানার কাছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় বহু সাধারণ নাগরিক আহত হন বলে হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই হতাহতের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে দেখছে।
বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এমনিতেই অত্যন্ত নাযুক। ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী ক্রমাগত হামলা ও সামরিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা এক অভূতপূর্ব মাত্রা যোগ করেছে। ঠিক এই মুহূর্তে ইয়েমেনে সৌদি জোট ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৌশলগত তেল সরবরাহকারী দেশটিতে এই ধরনের হামলা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স
