শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

জাতীয় স্লাইড

তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা, শিল্প এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষায় বিজিবি সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে:

  • ঢাকা অঞ্চল: সাভার, আশুলিয়া এবং মিরপুর এলাকা।

  • নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল: শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইল।

  • গাজীপুর অঞ্চল: চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনা।

বিজিবি সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল থেকে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কার্যক্রম ও সরাসরি ভিডিও ফুটেজ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থেকে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাদের এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক আন্দোলন ও অসন্তোষ চলছিল। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। মজুরি বোর্ড গঠনের পর তিনি শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে অবিলম্বে সড়ক ছেড়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আকুল আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনের আগে তৈরি পোশাক খাতের তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী।

শুক্রবার শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এবং শনিবার বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর এই ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নবগঠিত বোর্ডের কাঠামো নিম্নরূপ:

  • চেয়ারম্যান: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।

  • মালিকপক্ষের প্রতিনিধি: বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন।

  • শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি: বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

  • অন্যান্য সদস্য: বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব, এবং নিরপেক্ষ সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন।

এই বোর্ড পোশাক খাতের সকল গ্রেডের শ্রমিকদের পদভিত্তিক সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণের জন্য বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার নতুন মজুরি কাঠামো ও প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। পূর্বে শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর এই মজুরি পুনর্নির্ধারণের নিয়ম ছিল। তবে সম্প্রতি পাস হওয়া সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী এই সময়সীমা কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।

আইনগত নিয়মের ধারাবাহিকতায় এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনায় রেখে চলতি মাসে এই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কারখানা ও শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন সচল রাখার পাশাপাশি স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *