সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত শারদীয় দুর্গাপূজার আবহ ও সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে উত্তরাঞ্চল সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যাত্রাপথে আয়োজিত একাধিক জনসভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান সরকার সমাজের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের ভাগ্যোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর মহাসড়কের পাগলাপীর এলাকায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব হাতে নেওয়ার পর থেকেই প্রতি মুহূর্তে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। গণমানুষের সরকার হিসেবে সাধারণ জনগণের কষ্ট লাঘব করাই এই প্রশাসনের মূল অঙ্গীকার।
প্রধানমন্ত্রী সরকারের সাম্প্রতিক জনবান্ধব সিদ্ধান্তগুলো পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের কৃষক সমাজকে অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। কৃষির সার্বিক আধুনিকীকরণ ও সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে ‘কৃষি কার্ড’। একইসঙ্গে দেশের প্রতিটি প্রান্তিক পরিবারের কাছে সরকারের সহায়তা ও খাদ্য নিরাপত্তা পৌঁছে দিতে কার্যকর করা হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। পাশাপাশি, সামাজিক ও ধর্মীয় মেলবন্ধনকে সুদৃঢ় করতে দেশের মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মীয় গুরু ও নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতার সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
পথসভায় বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজার শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস কোনো একক গোষ্ঠীর নয়। এ দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ সমানভাবে আত্মত্যাগ করেছেন এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। তাই স্বাধীন এই ভূখণ্ডে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সরকার কোনো ভেদাভেদ না রেখে প্রতিটি ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে উদ্দীপনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—যে পরিচয়েরই হই না কেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং এই দেশ আমাদের সকলের। আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে একটি সুসংগঠিত ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশে রূপান্তর করা। এই পূজার লগ্নে এটাই আমাদের সবার প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।”
ঢাকার বাইরে তিনটি বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এই সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর গাড়িবহর নিয়ে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সড়ক ও মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ জনতা তাঁকে সাশ্রু ও উৎসুক চোখে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীও গাড়ির জানালা দিয়ে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার উষ্ণ অভিবাদনের জবাব দেন।
রংপুর যাওয়ার পথেই তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং স্থানীয় উৎসুক জনতার সাথে কুশল বিনিময় করেন। সফরসূচি অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী তার সফরের পরবর্তী ধাপে রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ) মন্দির পূজামণ্ডপে উপস্থিত হবেন। সেখানে মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন।
