সাইবার আক্রমণ, অন্তর্ঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো সুরক্ষিত করতে ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ নামে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা উদ্যোগ ঘোষণা করেছে মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ (পেন্টাগন)। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই নির্দেশিকা ঘোষণা করে একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় বীমা পলিসি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নতুন এই কাঠামোর অধীনে জাতীয় জরুরি অবস্থা বা শত্রুপক্ষের আক্রমণের সময় দেশের সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পিট হেগসেথ জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতে বেসামরিক বিদ্যুৎ গ্রিড অচল হয়ে পড়লেও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো যেন নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম থাকে। এর ফলে সাইবার হামলায় সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও ঘাঁটিগুলোর আলো জ্বলবে, কমান্ড সেন্টার কার্যকর থাকবে এবং যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন অব্যাহত থাকবে।
‘ফোর্ট্রেস’ উদ্যোগের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো জরুরি প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিদেশি নির্ভরতা কাটানো।
বিরল মৃত্তিকা, সেমিকন্ডাক্টর, বিশেষ ধাতু ও গুরুত্বপূর্ণ প্রোপেল্যান্টের মতো উপাদান যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খনন, পরিশোধন ও তৈরি নিশ্চিত করা হবে। যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে কার্যক্রম সচল রাখতে স্যাটেলাইট, স্পেকট্রাম এবং যোগাযোগের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সুরক্ষার পাশাপাশি কৌশলগত রিজার্ভ মজুদের ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা কাঠামোর পাশাপাশি পেন্টাগনে একটি নতুন ‘ধর্মীয় বিষয়ক দপ্তর’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন হেগসেথ। তিনি জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে এই দপ্তরটি সরাসরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট করবে।
এটি মূলত বাহিনীর চ্যাপলিনদের সহায়তা করা, ধর্মীয় বাজেট সুরক্ষা এবং সেনা সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
