২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী, সামনে যে নতুন চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক স্লাইড

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চরম এক কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছেন দেশটির নবাগত প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির সরকার। দুই মিত্র ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের মাঝে দাঁড়িয়ে এখন দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা ও নিয়ন্ত্রণে আনাই বাগদাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন অনুমোদনে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বুধবার যৌথ জোটের সেনা প্রত্যাহারের পর ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো তাদের সমস্ত অস্ত্র সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন ও জটিল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানপন্থি দলগুলো ইরাক ও আশপাশের এলাকায় থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় শত শত হামলা চালিয়েছে, যা ইরাকের জন্য সংকটকে আরো গভীর করেছে।

একাধিক জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তেহরান কোনোভাবেই তাদের অনুগত দলগুলোকে অস্ত্র সমর্পণের অনুমতি দেবে না।

তারা সরাসরি বাগদাদকে সেই বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে।

ইরাকি রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাজাদ জিয়াদের মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের এই কৌশলগত অস্ত্র ছাড়বে না। তেহরান চায় মার্কিন সরকার তাদের ওপর কোনো হামলা চালাবে না, এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এসব দল সশস্ত্রই থাকবে।’

তবে ইরাকের বর্তমান সরকার ও সশস্ত্র দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব রয়ে গেছে।

একদিকে তেহরান সমর্থিত দলগুলো মনে করে সরকার তাদের মার্কিন বাহিনীর হাত থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ, অন্যদিকে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার অভিযোগ ওঠায় বাগদাদ সরকার এসব গোষ্ঠীকে নিজেদের জন্য বড় ধরনের ‘বোঝা’ মনে করছে।

এদিকে কয়েকটি ছোট গোষ্ঠী অস্ত্র জমা দিতে রাজি হলেও কাতায়েব সাইয়্যিদ আল-শুহাদাসহ মূল শক্তিশালী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই অস্ত্র ছাড়বে না।

বাগদাদের একটি শীর্ষ কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কীভাবে নিরস্ত্র করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেই। যদিও দুই জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী জাইদি প্রয়োজনে এসব দলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রাখা গেছে।

কাতায়েব সাইয়্যিদ আল-শুহাদার মুখপাত্র কাজেম আল-ফারতুসি নিশ্চিত করেছেন, তারা সরকারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাত চান না কারণ এতে ‘কারোই জয় হবে না’।

তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকান ও ইসরায়েলিদের মূল লক্ষ্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিশ্চিহ্ন করা। আমাদের অস্ত্র আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যদি আমাদের অস্তিত্ব শেষ করে দিতে চায়, তবে অস্ত্র জমা সংক্রান্ত কোনো আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *