যেভাবে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে

আন্তর্জাতিক স্লাইড

ইরানের বিরুদ্ধে দফায় দফায় সামরিক অভিযান চালিয়েও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকলেও ওয়াশিংটনের আচরণে তারা এখন নিজেদের দুর্বল ও অপমানিত মনে করছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, শনিবার দেশটির পবিত্র কোম শহরে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) অধীনস্থ বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার হোজ্জাতুল ইসলাম হোসেইন তায়েব।

তায়েব বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং দেশটির সামরিক ও প্রতিরোধ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল করার পরিকল্পনা করেছিল ‘শত্রুপক্ষ’। তবে তাদের এই পরিকল্পনা সফল হয়নি। ইরানের ওপর হামলায় প্রতিদিন প্রায় ২০০টি বিমান ব্যবহার করা হয়।

নতুন অস্ত্র ও বোমাও পরীক্ষা করা হয়। বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েনের পাশাপাশি সমুদ্র থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল।

এ অবস্থায় ইরানি জনগণ প্রতিরোধ অব্যাহত রাখায় শেষ পর্যন্ত তারা যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন এই বাসিজ কমান্ডার। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতি চাইনি, তারাই যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে এসেছিল।

তার দাবি, পরবর্তী আলোচনায় একটি সমঝোতা স্মারক হলেও ৬০ দিনও তা মেনে চলেনি শত্রুপক্ষ। পরে তারা ইরানের ওপর নৌ অবরোধের কৌশল নেয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামাজিক অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরির পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তায়েব। তবে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং অঞ্চলকে ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাম্প্রতিক মার্কিন জনমত জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে তায়েব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৭১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভুল করেছেন।

একই সঙ্গে ইউরোপের অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন বাসিজ কমান্ডার। তার মতে, ইউরোপীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকলেও ওয়াশিংটনের আচরণে তারা নিজেদের দুর্বল ও অপমানিত মনে করছে।

তিনি আরো দাবি করেন, বিশ্বের ক্ষমতার মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আর বিশ্বের কেন্দ্র নয়, আর ইসরায়েলও এই অঞ্চলের কেন্দ্র নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *