বাংলাদেশে আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক সতর্কতাকে ‘অনুমাননির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পত্রিকার মাধ্যমে যতটুকু জেনেছেন, তাতে মনে হচ্ছে অনুমানের ভিত্তিতে কোনো মন্তব্য করা হয়েছে। এ কারণে সরকার আপাতত ওই প্রতিবেদন আমলে নিচ্ছে না। অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে না।
সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫-এর প্রতিবেদনসংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি শুনেছি। রিপোর্টটি না দেখে বলতে পারব না। সরকার প্রতিবেদনটি আমলে নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। তাছাড়া আমি যতটুকু শুনেছি, তারা একটা ‘অ্যাজিউম’ করেছে। অনুমান করেছে যে এ রকম হতে পারে। অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ওপর আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।
সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ঘিরে আল-কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা একিউআইএসের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বৃহত্তর সন্ত্রাসবিষয়ক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, একিউআইএস আফগানিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। সংগঠনটির নেতৃত্বের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন। তাদের বহির্মুখী অভিযান পরিচালনার বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিবেদনে আল-কায়েদার বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের পাশাপাশি ছোট ও বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর মাধ্যমে তৎপরতার ঝুঁকিও তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘের আগের পর্যবেক্ষণগুলোতেও একিউআইএসে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের নাগরিকদের যুক্ত থাকার তথ্য এসেছে। তবে এসব তথ্যের অর্থ বাংলাদেশে বর্তমানে সংগঠনটির সক্রিয় ঘাঁটি রয়েছে এমনটি সরাসরি প্রমাণ নয়। ২০২২ সালের জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনেও আফগানিস্তানে একিউআইএসের ১৮০ থেকে ৪০০ সদস্য থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলায় দৃশ্যমান উন্নতি দাবি : দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ৬ মাস বা ১৮০ দিনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা উন্নত হয়েছে জনগণই তার মূল্যায়ন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী এ সময়ে একাধিক প্রশংসনীয় ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকট তৈরি হলেও সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ : জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকট তৈরি হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রায় এক মাস মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়। পরে সহনীয় মাত্রায় দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ প্রসঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকায় স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে উদ্যোগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি বিদ্যমান সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন কমাতে আরও এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান।
কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড : সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সঠিক নীতির কারণে দেশে খাদ্যের একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
অন্য দপ্তরে যাওয়ার গুঞ্জন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্য কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে এমন গুঞ্জন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমিও গুঞ্জন শুনতেছি।’
