‘ইরান না পারলে এই অঞ্চলের কেউ তেল রপ্তানি করতে পারবে না’

আন্তর্জাতিক বিশেষ প্রতিবেদন স্পেশাল

 

তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক ও লেখক আলি আকবর দারেইনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং অঞ্চলটি একটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে তাহলে এই অঞ্চলের কেউ তা পারবে না।

আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি জানান তিনি। শনিবার (৬ মে) সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকারে আলি আকবর দারেইনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান কার্যকলাপ আমাদের একটি বৃহত্তর যুদ্ধের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তেও আমরা একটি স্বল্প মাত্রার যুদ্ধের মধ্যে আছি, ফলে এখন কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।’

ইরান তিনটি জিনিস চাইছে বলে জানান দারেইনি। বলেন, ‘প্রথমত, জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে লারাক দ্বীপের উত্তর দিক থেকে প্রবেশ এবং দক্ষিণ দিক থেকে বের হওয়ার জন্য ইরানের নির্ধারিত করিডোর দিয়ে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরান যে পরিষেবা দিচ্ছে তার জন্য ট্যাক্স দিতে হবে এবং তৃতীয়ত, জাহাজগুলো এমন কোনো পণ্য বহন করতে পারবে না, যা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে অথবা দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান এই শর্তে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি জাহাজকে প্রণালি দিয়ে যেতে দিচ্ছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে ইরান এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিক, আর একারণেই বাড়ছে উত্তেজনা।’

ইরানের সক্ষমতার বিষয়েও মন্তব্য করেন এই গবেষক। বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের লঙ্ঘনকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়ার চেয়ে ইরান তার প্রতিশোধের পরিধি বাড়াতেই বেশি পছন্দ করছে, এমনকি তা বড় আকারের যুদ্ধের দিকে গড়ালেও ইরান তা করবে। ইরানের রেড লাইন স্পষ্ট, আর তা হলো- ইরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তবে এই অঞ্চলের কেউই তা পারবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *