কেন বারবার শিল্পীকেই মূল্য দিতে হবে? – প্রশ্ন সাফা কবিরের

বিনোদন স্পেশাল

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী সাফা কবির। দেশের বাইরে নিজের চলচ্চিত্র ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে একজন শিল্পীকে কেন বারবার এমন পরিস্থিতির মূল্য দিতে হবে—এমন প্রশ্ন তুলে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানান সাফা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও বাঁধনের ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।

সাফা বলেন, বাঁধন ও তার পরিবারের যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন শিল্পী যখন দেশের বাইরে কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সিনেমা ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যান, তখন তার প্রাপ্য হওয়া উচিত সম্মান ও নিরাপত্তা।

অপমান, হয়রানি কিংবা আতঙ্ক নয়।

দেশের শিল্পীদের বারবার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে টেনে আনার বিষয়টিও তুলে ধরেন সাফা। তার মতে, সত্য, ন্যায় ও মানুষের কথা বলা একজন শিল্পীর স্বাধীনতার অংশ। তবে নিজের কণ্ঠ ও মত প্রকাশের কারণে কেন একজন শিল্পীকে বারবার মূল্য দিতে হবে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।

কয়েকজন মানুষের আচরণের কারণে পুরো দেশের মানুষকে বিচার করার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাফা। তার মতে, কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বিদেশে বাংলাদেশিদের হিংস্র, উগ্র কিংবা অসভ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ে। এমনকি দেশের বাইরে তাদের সম্মান, ভিসা কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাঁধনের ঘটনা যেন কয়েক দিনের আলোচনা ও প্রতিবাদের পর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন সাফা। নতুন কোনো ঘটনা সামনে এলে আগের ঘটনা চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সবাইকে বিষয়টি মনে রাখার আহ্বান জানান।

সাফার মতে, একজন শিল্পীর নিরাপত্তা, সম্মান ও স্বাধীনতার বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়। এর সঙ্গে সমাজ, দেশ ও জাতীয় পরিচয়ের বিষয়ও জড়িত। তাই কোনো শিল্পীর কণ্ঠ, সম্মান ও নিরাপত্তা কখনোই রাজনৈতিক বিরোধের মূল্য হওয়া উচিত নয়।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে ইতালির ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় হামলার শিকার হন আজমেরী হক বাঁধন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাই ও তার শিশু সন্তান। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে নিজেদের ‘ভেনিস ছাত্রলীগ’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ পরিচয় দিতে দেখা যায়। তারা বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ ও হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন জানান, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, শরীরে পানি ছুড়ে মারা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে এ ঘটনায় স্থানীয় ভেনিস থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *