পরীক্ষা চলছে ব্রাজিল শিবিরে।

৫৯

ইমরান হোসেন পিয়াল, খেলা ডেস্ক

লাতিন দেশগুলোর জন্য তিতের ২টি ম্যাজিকেল ফর্মেশন এবং নেইমারের বেস্ট ভার্শন বের করতে পারাই ব্রাজিলের লাতিন অঞ্চলে ডমিনেট করার প্রধান কারন।

ব্রাজিলের হয়ে ৫ বছরের কোচিং ক্যারয়ারে মাত্র ৪ ম্যাচ হারা কোচ তিতে এবার বেশ আটঘাট বেধে ট্যাকটিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য মাঠে নেমেছেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং কোপা আমেরিকা মিলিয়ে ব্রাজিল সম্প্রতি ৪টি ম্যাচ খেলেছে। এই ৪টি ম্যাচে ২ ধরনের ট্যাকটিক্যাল এপ্রোচ দেখিয়েছেন কোচ তিতে।

যে টিমগুলো শুধু ডিফেন্সে মনোযোগ দেয়, গোল করার জন্য স্পেস পাওয়া যায় কম সেই টিমগুলার বিপক্ষে তিতের ফর্মেশন ছিলো ২-৩-৫। এই ফর্মেশনটি ট্রান্সফর্ম করেছেন ৪-৩-৩ ফর্মেশন থেকে। ডিফেন্সে ২ সিবিকে স্থির রেখে মাঝমাঠের ডিপ লাইনে ২ জন মিডফিল্ডারের সাথে দানিলোর সার্কুলেশন করিয়েছেন৷ লোদিকে নামিয়ে স্পেস বের করার জন্য প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের সামনে ৫ জনকে দাড় করিয়েছেন। এই লাইনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নেইমার। মিডের ডিপলাইন থেকে বল নিয়ে একইসাথে ড্রিবলিং,পাসিং,স্পিনিং এবং প্রয়োজন মতো জোড়ালো শটের ব্যবহার নেইমারকে করেছে ক্ষুরধার। একজন আদর্শ নাম্বার ১০ কে যেন বের করে আনছেন তিতে। এই সেট আপে একজন ফক্স ইন দ্যা বক্স স্ট্রাইকারকে খেলিয়ে গোল করার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিতে। তাই এক্ষেত্রে গাবিগোল ও রিচার্লিসনকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে দেখা গেছে৷

যে টিমগুলো শুধু ডিফেন্সে স্থির না থেকে এটাকেও মনোযোগ দিয়েছে,সেই টিমগুলার বিপক্ষে তিতের ফর্মেশন ৪-২-৪। তিনি এই ফর্মেশনটির ট্রান্সফর্ম করেছেন ৪-৪-২ ফর্মেশন থেকে। এক্ষেত্রে সান্দ্রো ও দানিলোকে ডিফেন্সিভ মুডে রেখে ব্যাকলাইনে ৪ জন স্থির রাখেন তিতে। ডিপলাইনে ২ জন মিডফিল্ডারকে রেখে উপরে ৪ জন প্লেয়ারকে রাখেন৷ এই সেট আপ এমনভাবে তৈরি যেন প্রতিপক্ষ প্লেয়ার মার্কিং এ আগ্রহী হয়,এতে করে ডিফেন্সে হাফ স্পেস তৈরি হয়। এই সেট আপে নেইমারকে স্পেস বানিয়ে দেওয়ার জন্য ফিরমিনোকে ডাবল ফলস নাইন হিসেবে খেলিয়েছেন তিতে । ফলে নেইমারের সাথে ২ উইং এর কম্বিনেশন টা হয় চমৎকার।

এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার লক্ষনীয়। প্যারাগুয়ে এবং পেরু ম্যাচে এডারসনকে নামানোর মূল কারন ছিলো তার ফরওয়ার্ড পাসিং সুবিধাটাকে কাজে লাগানো। পেরু ম্যাচে সেরকম কিছু দেখা না গেলেও প্যারাগুয়ে ম্যাচে এরকম দারুন পাস দিতে দেখা গেছে এডারসনকে। অর্থাৎ এলিসন ও এডারসনকে রোটেশন করে খেলানো হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট প্ল্যান মাথায় রেখেই৷


উনাই এমেরি ও টমাস টুখেল পিএসজিতে নেইমারকে যেভাবে নাম্বার ১০ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন, ব্রাজিল দলে এসে সেটার পূর্ন ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন তিতে। ফ্রি প্লে মেকার হিসেবে আবির্ভূত হয়ে নেইমারের খেলার ধরনটাই পালটে গেছে। অনেকটা মেসির মতো বিচরণ করতে থাকা নেইমারের খেলায় ফুটে উঠছে আক্রমনে নেতৃত্বের ব্যাটনটা তার হাতেই। নিজে যেমন দারুন খেলছেন,সতির্থদেরকেও দারুন খেলাচ্ছেন।

ইউরোপের টিমের সাথে খেলার জন্য তিতে এই ২ প্ল্যানেই থাকবেন নাকি আরও নতুন কোনো ফর্মেশনে যাবেন সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে আপাতত তার এই ট্যাকটিক্যাল এপ্রোচ দিয়ে তিনি যে লাতিন দেশগুলোর সাথে ডমিনেট করেই যাবেন এটা অন্তত শিওর হয়েই বলা যায়।

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.