Article for Covid-19 by Child care and carier club

৪৯

ডেস্ক রিপোর্টারঃ নতুন নিয়মে,নতুন প্রজন্ম.
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর আতংকে পুরো বিশ্ব আজ স্থবির। আমাদের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ত জীবন যেন থমকে গিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা অনেকেই ঘরে বসে অফিস বা নিজেদের কাজগুলো সম্পূর্ণ করে ফেললেও আমাদের পরিবারের ছোট্ট শিশুটি যেন সবার অগোচরেই থেকে যাচ্ছে এই বিশেষ সময়ের যত্ন থেকে। দিন-রাত চার দেয়ালের মাঝে বন্দী থেকে শিশুরা সহজেই বিরক্ত, রাগী বা জেদী হয়ে যাচ্ছে। যেখানে আগে তাদের একটি নির্দিষ্ট খাদ্যাভাস, ঘুম, বিনোদন, বিশ্রাম এবং পড়ালেখার রুটিন ছিল এখন সেখানে কোন কিছুরই যেন ঠিক নেই । শিশুদের মধ্যেও ভাইরাস নিয়ে আতংক বা অনির্দিষ্ট সময়ের বন্দী জীবন নিয়ে হতাশা এবং তা থেকে অভ্যাসগত, আচরণগত, আবেগিক বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এসময়ে শিশুদের পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে এবং তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে প্রায় ৭০ জন (৫-১৫বছর বয়সী) শিশুর উপর ২ মাস জরিপ করে কলেজ অফ হোম ইকোনোমিকস এর শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের
“চাইল্ড কেয়ার এন্ড ক্যারিয়ার ক্লাব” এর সদস্যরা।

জরিপ থেকে তাদের নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো আমরা দেখতে পাইঃ

১.শিশুরা নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্যগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে, কিছু শিশুর মধ্যে ক্ষুধামন্দা ও দেখা যায়।

২.অনেক দেরীতে ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া।

৩.কোন ধরণের শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলাতে অনীহা প্রকাশ, ক্লান্তিভাব এবং কারো সাথে নিজের ব্যাপারে কিছু না বলা, একাকী মনমরা ভাবে থাকা।

৪.খুব সহজেই রেগে যাওয়া বা যেকোন বিষয়ে জেদ করা।
বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস এর প্রতি আসক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া।

৫.পড়ালেখার প্রতি অনীহা, অনিশ্চিত জীবন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা।

শিশুদের উপরোক্ত সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে এগিয়ে আসতে হবে আপনাকেই। বিভিন্ন শিশু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে উন্নত বিশ্ব সহ পৃথিবী ব্যাপী প্রায় ৬৫% শিশু বিষণ্ণতায় ভুগছে এবং তারা অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করছে।

শিশুদের এই ক্রান্তিকালীন সময়ে মানসিক ভাবে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ রাখতে আমাদের কিছু বিষয়ের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে । চেষ্টা করতে হবে তারা যেন হতাশায় নিমজ্জিত না হয়ে পড়ে। এজন্য একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জেনে রাখলে এই সময়ে হয়তো শিশু প্রতিপালন অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য।

দৈনন্দিন রুটিন তৈরী করাঃ আপনার শিশুটি এতদিন ধরে একটি রুটিন অনুযায়ী চলে অভ্যস্ত ছিল, সেখানে হঠাত করে এই স্থবির ও অনিয়ন্ত্রিত জীবন ধারা তার জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে। শিশুদের বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন সময় ভাগ করে দিন। যেখানে তার পড়ালেখা থেকে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক এমন সব কাজ উল্লেখ থাকবে। তবে মনে রাখতে হবে সব কাজ প্রতিদিনের জন্য যেন একই না হয়ে যায় এতে একঘেয়েমী চলে আসে শিশুদের মাঝে।

পর্যাপ্ত তথ্য সঠিকভাবে জানানোঃ
কোভিড-১৯ নিয়ে সারাদিন বিভিন্ন ধরণের নেতিবাচক খবরে শিশুরা প্রভাবিত হচ্ছে আপনার অজান্তেই। শিশুদের সামনে নেতিবাচক কোন খবর শোনা, পড়া বা আলোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য যে তথ্যগুলো প্রয়োজন বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাতে বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে শিশুদের বোঝাতে চেষ্টা করুন। কখনোই শিশুদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোর করবেন না এতে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পরেও তার মধ্যে আতংক থেকে যেতে পারে।

শিশুর নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করার সুযোগ দিনঃ
শিশুদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তারা ইতিমধ্যেই অনেক বিষয়ে জানে বা হতে পারে এই আবদ্ধ জীবন নিয়ে তারা আতংকিত কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারেনা। শিশুর সাথে কথা বলুন এবং জানতে চান তার অনুভূতি নিয়ে, তার অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে কোন ছবি বা লেখা । শিশুদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন এবং কড়া সুরে নয় বরং মমতামাখা কন্ঠে তার নির্ভরতার আশ্রয় হয়ে উঠুন আপনি।

ডিজিটাল ডিভাইস কিছু সময়ের জন্য হয়ে উঠতে পারে শেখার মাধ্যমঃ
আপনি যদি একজন কর্মজীবী মা হয়ে থাকেন তবে আপনার কাজের এবং পারিবারিক সময় আলাদা করে রাখুন সম্পূর্ণ। যে সময় আপনি বাড়িতে বসে আপনার অফিসের কাজ করছেন সে সময়টাই শিশু যেন আপনার বিরক্তির কারণ না হয়ে উঠে আবার আপনার শিশুটিও যেন অবহেলিত না হয় তা নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব। এজন্য শিশুদের হাতে শুধুমাত্র একটি ডিজিটাল ডিভাইস ধরিয়ে না দিয়ে, তাকে এটি শেখার মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে শেখান। শিশুতোষ কোন ছবি আকা বা কাগজ দিয়ে খেলনা তৈরী ইত্যাদি ভিডিও খুব সহজেই তাদের আকৃষ্ট করে। আপনার কাজের সময়ে পাশে বসা শিশুটিকে মাতিয়ে তুলুন সৃষ্টির আনন্দে ।

গুনগত সময় কাটান শিশুর সাথেঃ
অনেকের কাছেই “গুণগত সময়” শব্দটি নতুন মনে হতে পারে আবার মনে হতে পারে দিন রাত ২৪ ঘন্টাতো শিশু আমার সাথেই আছে এটাই তো গুনগত সময় কিন্তু না এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আচ্ছা মনে করে দেখুন তো আপনার বাবা মায়ের সাথে ছোটবেলার সব স্মৃতি কি মনে আছে আপনার? নিশ্চয় না। কিন্তু কিছু মজার স্মৃতি কিন্তু ঠিকই গেঁথে আছে আজীবনের জন্য।

যখন আপনি শুধুমাত্র শিশুর সাথে কোন কাজের মাধ্যমে, গল্পে বা আনন্দময় সময় কাটান যা তাকে সুন্দর স্মৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে সেটিই গুণগত সময় , হতে পারে তা ঘুমানোর আগে কোন রূপকথার গল্প বলা বা কোন কবিতা অভিনয় করে তাকে শোনানো ও শেখানো। এই সময়টা শুধুই আপনার ও আপনার শিশুর।

দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে শারীরিক ব্যায়ামঃ
শিশুদের বৃহৎ পেশী সঞ্চালন এর মাধ্যমে শারীরিক বৃদ্ধি ও হাড়ের দৃঢ়তা সম্পন্ন হয়। শিশুরা বিদ্যালয়ে বা খেলার মাঠে যে শারীরিক পরিশ্রম করতো খেলাধুলার মাধ্যমে তা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ কিন্তু তাই বলে তো শিশুদের শারীরিক ব্যায়াম বাদ দেয়া যাবেনা। শিশুকে আপনার কাজে সাহায্য করার জন্য খেলার মাধ্যমে সংযুক্ত করুন , হতে পারে তা খাবার টেবিলে ছোট কিছু এগিয়ে দেয়া বা রান্নার সময় বিভিন্ন উপকরণ এগিয়ে দেয়া। বিভিন্ন ইনডোর খেলাগুলো পরিবারের সবাই মিলে খেলতে পারেন যা আপনার শিশুর ও আপনার জন্য অনেক বেশি আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।

শিশুর সামাজিক ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিতকরণঃ
আপনার অজান্তেই আপনার শিশুটি সামাজিক পরিবেশে সবার সাথে মেলামেশার মাধ্যমে তার সামাজিক ও নৈতিক গুণাবলী গুলো অর্জন করে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এই বন্দী জীবনে আপনার শিশুর সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন যেন ব্যাহত না হয় সেদিকটি খেয়াল রাখুন। এসময় বিভিন্ন সংগঠন বা ব্যক্তি উদ্যগে অন্যকে সাহায্য করার বা মানুষের ভালো কাজগুলো আপনার শিশুর সামনে গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন এতে সে ও মানবিক হতে শিখবে। শিশুদের বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে সমস্যা তৈরী করে তাকে তার সমাধান বের করতে বা নিজের মতো গল্পটা শেষ করতে বলতে পারেন এতে তার জ্ঞানীয় বিকাশ অনেকটাই সম্পন্ন হবে খেলার ছলে। পরিবারের অন্যান্য আত্নীয়দের সাথে আপনি কথা বলার সময় আপনার শিশুকেও কথা বলতে উৎসাহিত করুন। এতে সে সামাজিকতা শিখতে পারবে খুব সহজেই।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর ক্ষেত্রে করণীয়ঃ
আপনার শিশুটি যদি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হয়ে থাকে তবে তার দিকে আরো সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখবেন। তাকে এই সময়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন ছবি একে , এনিমেশন এর মাধ্যমে বা অভিনয় করে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন। তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে এমন কোন কাজ তাদের দিয়ে করাবেন না। আপনার নিকট আত্নীয় বা অন্য বন্ধুদের তার বিশেষ প্রয়োজন গুলো এবং তার স্পর্শকাতর দিকগুলো জানিয়ে রাখুন এবং নিশ্চিত করুন যদি কোন কারণে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে তারা যেন আপনার শিশুর খেয়াল রাখতে পারে।

সর্বোপরি নিজেকে শক্ত ও আত্নবিশ্বাসী রাখুনঃ
আপনার আর্থিক অনটন বা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন আপনার শিশুটির সামনে প্রকাশ না পায় তা খেয়াল রাখুন। নিজের ভয়, সংশয় বা দ্বিধাগুলো আপনার শিশুর থেকে আড়ালে রাখুন। যদি আর্থিক সমস্যার কারণে জীবন ব্যবস্থায় কোন বড় পরিবর্তন আনতে হয় তবে আপনার শিশুকে সেই পরিবর্তন সম্পর্কে জানান তবে কারণটি তার সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরুন।
যেমনঃ আমাদের সবারই ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা প্রয়োজন একই সাথে বিপদে অন্যদের সাহায্য করাও আমাদের কর্তব্য, আমরা যদি অতিরিক্ত খরচ না করি তাহলে আরো কিছু মানুষকে আমরা সাহায্য করতে পারবো বা বিপদকালীন সময়েও নিশ্চিত থাকা যাবে । এই ধরণের ইতিবাচক ধারণার মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠুক আপনার সন্তানটি।

জরিপ ও তথ্য সংগ্রহে ভূমিকা রেখেছেনঃ

পর্যায়ক্রমে,
নামঃ
বর্ষঃ
সেক্টরঃ

সানজিদা ইসলাম রিনি
চতুর্থ
রিসার্চ সেক্টর

ফারিয়া হক
চতুর্থ
কমিউনিকেশন সেক্টর

সানজিদা হোসেন
তৃতীয়
রিসার্চ সেক্টর

সুফিয়া খাতুন নাঈমা
তৃতীয়
কমিউনিকেশন সেক্টর

জান্নাতুল হুরাইন পিউ
তৃতীয়
কমিউনিকেশন সেক্টর

কানিজ ফাতেমা
তৃতীয়
অরগানাইজেশন সেক্টর

রোকসানা রহমান তিথি
তৃতীয়
অরগানাইজেশন সেক্টর

ঊর্মি সরকার
তৃতীয়
অরগানাইজেশন সেক্টর

নুসরাত তাসনিম মুনা
তৃতীয়
ক্রিয়েটিভ সেক্টর

বুশরা মাকসুদ
দ্বিতীয়
অরগানাইজেশন সেক্টর

আয়েশা তাহিরা
দ্বিতীয়
ক্রিয়েটিভ সেক্টর

সানজিদা ইসলাম অত্রি
দ্বিতীয়
ক্রিয়েটিভ সেক্টর

লিখেছেন,
লাবণ্য লতিফ
চতুর্থ বর্ষ।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে,

ফাইরুজ আতকিয়া অহনা
প্রেসিডেন্ট
চাইল্ড কেয়ার এন্ড ক্যারিয়ার ক্লাব।
শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগ
কলেজ অফ হোম ইকোনোমিকস।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.