২১ এর গৌরবোজ্জল স্মৃতি(পর্ব-১)

৩০

মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম,সম্পাদকীয়ঃ যে ভাষা আমাদের হ্নদয়-মনে প্রভাব বিস্তার করে, আপন-পর সকলের মাঝে প্রেম-বেদনা ও হাসি-কান্নার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এক অসাম্প্রদায়িক জাতিসত্তার আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছে,সেই ভাষা আমাদের মায়ের মুখের ভাষা,আমাদের বাংলা ভাষা।একটি জাতির সামগ্রিক সংস্কৃতির প্রেম-গাঁথার বহিঃপ্রকাশ ঘটে,তার মাতৃভাষার মাধ্যমেই।

কিন্তু দুটি ভিন্ন ভাষার জাতিসত্তার পরিচয়কে, এককভাবে উর্দুকে দুই-জাতির রাষ্ট্রভাষার পরিচয়ে সূচনা করতে পশ্চিম পাকিস্তান মেতে উঠেছিল।কিন্তু মুসলিম বাঙালিদের মনে ততদিনে আত্ম-অন্বেষণে ভাষাপ্রীতি জেগে উঠেছিল। এই নিয়ে দুটি ভূখণ্ডে সৃষ্টি হয় ভাষা-সংস্কৃতির পার্থক্য। এই পার্থক্যই পরবর্তীতে সূচনা করে ভাষা আন্দোলনের।যা পূর্ব পাকিস্তানে “রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন” নামে অগ্নি-স্ফূলিঙ্গ পুরো দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

৩১শে জানুয়ারি ১৯৫২ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে পূর্ব পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবিদের নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।এই সম্মেলনেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে”সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ”গঠন করা হয়।এই সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পারিষদ ১৯৫২ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি থেকেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বিভিন্ন কার্যক্রম আহ্বান করতে থাকেন।যা ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয় রাষ্ট্রভাষা। ফেব্রুয়ারির এই ভাষা আন্দোলনই স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির বীজছিল।তাই ফেব্রুয়ারির এই ভাষা আন্দোলনই বাঙালিদের চেতনার বাতিঘর।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.