হেসেখেলে এশিয়া কাপ চ্যাম্পয়িন ভারত ।

৪১

জজনিজস্ব প্রতিবেদক:বশির উদ্দিন আহমেদ
শ্রীলঙ্কার ৫০/১০(১৫.২ ওভার)
ভারত :৫১/০(৬.১ ওভার)
ফলাফল:ভারত ১০ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অফ দি ম্যাচ: মোহাম্মদ সিরাজ
প্লেয়ার অফ দি সিরিজ:কুলদীপ যাদব।
প্রাইজ মানি :পনের হাজার ডলার।(চ্যাম্পিয়ন পুরষ্কার)

 

হেসেখেলেই ফাইনালে জিতে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত।চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় শ্রীলংকা মাত্র ৫০ রানে অলআউট হয়ে ফাইনালের ম্যাচটাকে যাচ্চেতাই একটা খেলাতে পরিনত করেছে শ্রীলঙ্কা।এত বাজে ব্যাটিং এশিয়া কাপের ফাইনালে আগে কখনো হয়েছে এমন নজির নেই। শ্রীলঙ্কার এই অসহায় আত্মসমর্পণ সত্যিই বিস্ময়কর।নিজ দেশের নিজের আবহাওয়া কোন‌ কিছুই কাজে লাগাতে পারেনি শ্রীলংকান খেলোয়াড়রা।
শক্তির মানদন্ডে ভারত শ্রীলঙ্কা থেকে অনেক এগিয়ে। শ্রীলঙ্কা আন্ডারডগ হিসেবেই ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়েছে ।তাই বলে এতটা খারাপ !!!

ভারতের বোলাররা শ্রীলংকার ড্রেসিংরুমে যে আতংক ছড়িয়েছে তার থেকে ত্রাণকর্তা হয়ে কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি। জঘণ্য ব্যাটিং এর এক অপরূপ প্রর্দশনী দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব।অথচ পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে খেলার শেষ বলে ২ উইকেটে পরাজিত করেই ফাইনালে এসেছে শ্রীলংকা।ক্রিকেট খেলায় একটা কথা আছে দলের খারাপ দিন আসে । সেদিন কোন কিছুই পরিকল্পনা মাফিক হয় না ।আজ শ্রীলঙ্কার খেলায় কোন‌ পরিকল্পনা ছিল বলে অন্তত শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হয় নি ।মনে হয় হারার আগেই তারা হেরে বসে ছিল ।তাই টসে জিতে নিজেদের পরিচিত উইকেটে কেন ব্যাটিং নিতে গেল তা অপার বিস্ময় হয়ে থাকবে শ্রীলঙ্কার দর্শক এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে।যত‌ই চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হ‌উক না কেন টসে জিতে ব্যাটিং কখনোই সমর্থন যোগ্য নয়।

শ্রীলঙ্কা হয়তো ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে চিন্তিত ছিল । শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর যথেষ্ট আস্হা ছিল না টিম ম্যানেজমেন্টের।তাই শ্রীলঙ্কার টিম ম্যানেজমেন্টে চেয়েছে বড় কোন স্কোর করে‌ ভারতকে চাপে ফেলতে ।হয়তো পরিকল্পনা ঠিক‌ই ছিল । কিন্তু বিধাতার পরিকল্পনা হয়তো ছিল অন্য রকম ।তাই তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন আপ । সমুদ্রের কিনারায় বালির ঘরকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিল ভারতের বোলাররা।

তারমধ্যে সিরাজের ফেনিয়ে উঠা সমুদ্রের গর্জনে শ্রীলংকার ৬ ব্যাটসম্যান ভেসে গেছে বালিয়াড়ির মতো ।সফেদ ফেনার লোনা জল চোখের লোনা দলের সাথে মিশে শ্রীলঙ্কার শিবিরে কেবলই লোনা জলের বরিষণ।আহা !!! লংকা আহা !!

লংকান শিবিরে প্রথম আগুন ধরিয়ে দেন বুমরাহ শূন্য রানে কুশল পেরেরাকে বধ করলে অপর দিকে মোহাম্মদ সিরাজ ভূমিকম্পের অগ্নুৎপাত ঘটান।লাইন ধরে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা মিছিল করতে করতে ধ্বংস লীলা দেখে মাথায় একরাশ হতাশা আর না পারার ব্যর্থতাকে সংগী করে সাজঘরে ফিরেন । মোহাম্মদ সিরাজের আগুনের গোলার কাছে জ্বলে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যেন ট্রয় নগরীর ধ্বংসকে‌ই স্মরণ করিয়ে দিল আজ লংকার ব্যাটসম্যানরা ।

মোহাম্মদ সিরাজ কতটা বিষ ঢেলেছেন লংকান শিবিরে তার বোলিং ফিগার দেখলেই বোঝা যায় । মাত্র ৭ ওভার বোল করে ১টি মেডেন সহ ২১ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন। লংকান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে উইকেট কিপার কুশল মেন্ডিস এবং হেমন্ত দুই অংকের রান করেছেন । পাঁচ জন ব্যাটসম্যান রানের খাতা খুলতেই পারেন নি।কুশল মেন্ডিস সিরাজের ইনকার্টার বলে বোল্ড হ‌ওয়ার আগে ৩৪ বলে ৩ টি চারের সাহায্যে ১৭ রান করেন।আর হেমন্ত ১৫ বলে ১ টি চারের সাহায্যে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন ।খেলার উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শ্রীলঙ্কার ইনিংসে মাত্র ৫ টি চারের মার ছিল ।আর একটিও ছয়ের মার ছিল না ।
সিরাজের আগুনের গোলার পর হার্দিক পান্ডিয়া ২.২ ওভার বোল করে ৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার লেজ গুটিয়ে দেন।

মাত্র ৫১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে হেসেখেলেই মাত্র ৬.১ ওভারে লক্ষে পৌঁছে যায় ভারত ।ভারতের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ঈশান কিষান ও শুভমন গিল কোন রকম সুযোগ না দিয়েই ৬.১ ওভারে লক্ষে পৌঁছে যায়।ফলে ভারত ১০ উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ।ভারত ৮ম বারের মতো এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হলো ।যা সর্বোচ্চ।

এশিয়া কাপের ফাইনালের সর্বনিম্ন রান করে শ্রীলঙ্কা এতটুকুই সাত্বনা পেতে পারে যে,টসে জিতেছি আর ইনজুরির কারনে অনেক খেলোয়াড় খেলতে পারে নি !!

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.