হালদা নদী থেকে রেকর্ড পরিমাণ ডিম আহরণ

২৮৩

হাটহাজারী প্রতিনিধি, মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন: দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র চট্টগ্রাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মৎস্য হেরিটেজ প্রকল্পের হালদা নদীতে সপ্তাহের ব্যবধানে ২য় বারের মতো পূর্ণমাত্রায় রেকর্ড পরিমাণ ডিম আহরণ হয়েছে।

উল্লেখ্য গত সপ্তাহের প্রথমদিকেও নমুনা ডিম ছাড়ার পরের দিন রাতের বেলায় পূর্ণমাত্রায় রেকর্ড পরিমাণের কিছু ডিম আহরণ হয়েছিলো এবং পরে তা হ্যাচারির অব্যবস্থাপনার কারনে লবনাক্ত পানির মিশ্রণে নদী থেকে আহরণকৃত অধিকাংশ ডিম নষ্ট হয়েছিল। যা হালদা নদীর মৎস্য প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সকল মহলের বিবেক নাড়া দিয়েছিলো। ডিম সংগ্রহকারীরা দীর্ঘ দু’মাসের আর্থিক এবং শারীরিক পরিশ্রম শেষে পাওনা সফলতা হিসেবে যখন পুরস্কারের বদলে তখন হ্যাচারিতে মিঠা পানির প্রয়োগের ব্যর্থতায় এমন তিরস্কারের ক্ষতিতে তাদের মধ্যে বয়োবৃদ্ধ অনেক প্রবীণ ডিম সংগ্রাহকের চোখের পানিতে উত্তর মাদার্শার মাছুয়াঘোনায় অবস্থিত শাহ মাদারী নামক হ্যাচারিতে হতাশায় হাহাকারময় পরিস্থিতি বিরাজমান ছিলো। বহু বছরের নির্মিত হওয়া পুরনো টিন শেড ইটের গাঁথুনি দেওয়া পাকা কুয়াতে মিঠা পানি প্রয়োগে নানান অব্যবস্থাপনার সাথে লবনাক্ত পানির কারনে ডিম নষ্ট হওয়াতে রেণু উৎপাদন ও পরবর্তী সময়ের বিক্রিতেও তারই যথেষ্ট প্রভাব পড়েছিলো। যা ইতোমধ্যে পাওয়া সংগ্রহকৃত রেকর্ড ডিমের পরিমাণ যদি এবারের সময়ে যথাযথ ভাবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত বিভিন্ন হ্যাচারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে করা খননকৃত মাটির কুয়াতে মিটা পানির সংমিশ্রণে ফুটিয়ে তুলতে পারলে বিগত সপ্তাহের আর্থিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারার পাশাপাশি লাভবান হবেন বলে তা অনেকেই জানিয়েছেন।

সর্বশেষ আজ সন্ধ্যার দিকে সরেজমিনে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের গজখালী শাখা খালের মোহনায় আহরণকৃত ডিমের পরিমাণের বিষয়ে জানতে গেলে সেখানে দেখা যায় হালদা নদীতে ডিম ধরার নৌকা থেকে মোঃ এসকান্দর হোসেন নামের একজন প্লাস্টিকের বালতিতে করে ডিম নিয়ে এসে আগে থেকে নিজেদের তৈরী করা মাটির কুয়ার মধ্যে জালের ভিতরে ডিমগুলো স্বযত্নে ঢেলে দিচ্ছেন। সকাল থেকে রাত অবধি পর্যন্ত ঠিক কতটুকু পরিমাণ হালদা নদী থেকে ডিম আহরণ হয়েছে তা জানতে চাইলে সে এবং তার সাথে থাকা উপস্থিত নজরুল ইসলাম, রাশেদরা সর্বমোট আট বালতি ডিম আহরণ করতে পেরেছে। গতবারের আহরণ করা তাদের অধিকাংশ ডিম হালদা নদীর লবনাক্ত পানি প্রয়োগের কারনে নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে তারা আশা করছেন গত সপ্তাহের ক্ষতি এবারের সময়ে রেকর্ড পরিমাণ ডিম আহরণের কারনে এবং মিঠা পানির প্রয়োগ ঘটিয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে সকলেই লাভবান হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.