সৌহার্দপূর্ণ আচরণ

১৩

মোঃ সজীব হোসাইন,ভালুকা,ময়মনসিংহঃ জীবন চলার পথে এমন কিছু ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত বা পরিচিতি লাভ হয়,যখন শত সঙ্কটাপন্ন জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বাদ জাগে। ভাবী জীবনের দিনগুলো সম্ভাবনাময়ী হয়ে ওঠার প্রয়াস পায়।

ডাঃ মৌরিন মেডামের সাথে প্রায় ১ বছর আগেই মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্কের ভিত তৈরি হয়। অনেক ভাল মনের মানুষ তিনি। কথাবার্তায় অসম্ভব শালীনতা তাঁর। ময়মনসিংহ মেডিকেলের ডাক্তারদের সাথে স্মৃতিবিজড়িত অনেক ঘটনাই আছে। যাই হোক তিনি আমার সাথে অতিথিপরায়ণতার আচরণই করেছেন। আজ ময়মনসিংহ ডি.সি অফিসে যাওয়ার সময় চরপাড়া মেডিকেলের সামনে একজনকে বললাম আমি ডি.সি অফিসে কিভাবে যাব? পরক্ষণে তিনি আমাকে সম্মানের সাথে মহাসড়কে নিয়ে আসলেন। এক রিক্সাওয়ালাকে বললেন, এইভাবে এইভাবে ওখানে যাবে ভাড়া কত নিবা? রিক্সাচালক বলল- ৪০ টাকা। তিনি বললেন, ২৫ টাকা, ৪০ টাকায় সম্মতি দিলেন না। যেন তার পকেট থেকেই টাকাটা খরচ হবে। পরে আরেক রিক্সা চালকের সাথে কথা বলে ৩০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে, বললেন- তিনি আমাদের অতিথি, সাবধানে যেও। রিক্সা চালকও খুব সতর্কতার সাথেই ডি.সি অফিসে গেলেন। বছর খানেক আগে আসছিলাম এই ডি.সি অফিসে। এ.ডি.সি সাহেব ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে মিটিং করা অবস্থায়- ভিতরে ডেকে আমার সাথে কথা বলে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ.ডি.সি র আচরণে সেদিন সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। আজ কিন্তু বেলা ৩.০০টা বাজে জরুরি মিটিংয়ে থাকায় তখনও দুপুরের খাবার খাননি তিনি। তবু তার পাশের রুমের ম্যাজিস্ট্রেটের রুমে গেলাম- তিনি নম্রভাষায় কথা বললেন, পরামর্শ দিলেন, বুধবারে যেতে বললেন, তখন তিনি সাথে থেকে ডিসি সাহেবের সাথে কথা বলিয়ে দিবেন। নিশ্চয় ম্যাজিস্ট্রেটের আচরণ প্রশংসিত। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহা মানব হযরত মোহাম্মদ সঃ শিখিয়ে গেছেন, অতিথির সাথে কেমন আচরণ করতে হয়। একদিন একজন অতিথি তার বাসায় রাত্রি যাপন করতেছিলেন। গভীররাতে মেহমান হঠাৎ পেটের ব্যথা অনুভব করেন। এক সময় তার পায়খানার চাপ সৃষ্টিহল। ভয়ে বাহিরে না গিয়ে বিছানায় পায়খানা করে দিলেন। ঐ অতিথি মনে মনে লজ্জা পেলেন, দিনের বেলায় নবী করিম সঃ দেখলে গালি দিবেন ভেবে শেষ রাতেই পালিয়ে গেলেন। সকালে যখন নবীকরিম সঃ অতিথিকে দেখতে পেলেন না, তখন তিনি আক্ষেপ করতে ছিলেন যে, আমার ভুল হয়েগেছে- রাতে কেন তার খবর নিলাম না? তারতো রাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আমি অতিথির সাথে যথাপোযুক্ত আচরণ করতে ব্যর্থ হলাম। ব্রিটিশবিরোধী, ভাষাসৈনিক, স্বাধীনতার সৈনিক, দেশবীর মোঃ হোছেন আলী খান বাদেশী সাহেবের কাছাকাছি থাকার সুভাগ্য আমার হয়েছে- আমি দেখেছি- যারা তার চরম শুত্রুছিল, তাকে ১৯৭১ সালে ও পরবর্তি সময়ে হত্যা চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা খেয়েছিল- সেই ব্যক্তি বাদেশীর বাড়িতে পোলাও-মাংশ খেয়েছে। আপদে-বিপদে টাকাও ধার নিয়েছে। বাদেশীর বাড়িতে যেই আসুক- কমবেশি আপ্পায়ন তার জন্য থাকবেই। ছোট থেকেই শুনে আসতেছি- এক খুনি বেশ কিছু বছর পর মুসাফির অবস্থায় মরহুমের বাসায় রাত্রি যাপন করতেছিলেন। গল্প করতে করতে এক সময় বেড়িয়ে আসল বহু বছর আগে মুসাফিরই বাড়ির কর্তাকে খুন করেছিল। তিনি খুনি হলেও অতিথি। কথাটি বাড়ির লোকজন জানতো।

এতকিছু জানার পরও তারা অতিথিকে খাবার খাওয়ায়ে বলল, “তুমি যেহেতু আমাদের পিতাকে হত্যা করেছ, সে হিসাবে তোমাকে হত্যা করা দরকার। কিন্তি না তুমি আমাদের অতিথি। তাই তোমাকে সময় দিচ্ছি- তুমি ও আমরা ঘুমাবো যদি ঘুম থেকে উঠে তোমাকে পাই, তাহলে তোমাকে হত্যা করবো।” পরে রাতেই খুনি পালিয়ে গেছিল। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জমিদার বাড়িতে দেশবীর বাদেশীর আক্রমণের স্বপ্ন ছিল (জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের অংশ হিসাবে) কিন্তু তিনি তা করেননি বা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তার বংশধর হিসাবে সেই জনপদে গেছিলাম নবেম্বর মাসেই। রাস্তায় উকিল বাবুর আচরণে আমি সন্তুষ্ট। পরে প্রখ্যাত লেখক ও প্রভাষক রফিক ভূঁইয়া খোকা সাহেবের বাসায় উঠি। তার বাসায় আমাকে যথেষ্ট আপ্পায়ন করেছে। তাঁর বিবির হাতের রান্না খুবই স্বাদ। দোয়াকরি, তারা দুজনই সুখী হোক।

সর্বশেষ একটি কথা বলে লেখাটির ইতি টানছি। একমাত্র সৌহার্দপূর্ণ আচরণই পারে বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিবেশে সৃষ্ট প্রায় বসবাস অযোগ্য, ধরাধামে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আবহ সৃষ্টির মাধ্যমে পৃথিবীবাসীকে শান্তির পথে পরিচালিত করতে। আসুন জাতী, ধর্ম, বর্ণ, গরীব, ধনী নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেই আমরা সমান এ চেতনায় ভাল আচরণের দ্বারা সকলের মন জয় করতে সচেষ্ট হই।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.