সাকিবের অভাব, দলে তার প্রয়োজনীয়তা

১৮

ইমরান হোসেন পিয়াল,খেলা ডেস্কঃ তার হাতেই রচিত হয়েছে কতশত জয়ের গল্প। অনেক রূপকথার রূপকার তিনি। ২২ গজে নামলে যার হাতে শাসিত হয়েছে প্রতিপক্ষ। কখনো উইলো হাতে নিপুণ কারুকার্যে, কখনো বা আবার ঘূর্ণি মায়াতে। তার বুদ্ধিমত্তার কাছেও যেনো আত্নসমর্পণ করেছে অনেকে। এ যেনো এক ফুল প্যাকেজের অনন্য উদাহরণ। তার চিন্তায় যেনো দিশেহারা থাকেন অন্যরা।একজন সাকিব আল হাসান ক্রিকেটের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র।

নিঃসন্দেহে তিনি বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। কতশত ম্যাচের জয়ের পথ দেখিয়েছেন তিনি। অভিজ্ঞতার সবটাই যেনো বিলিয়ে দিয়েছেন সতীর্থদের মাঝে। অনেক হারতে বসা ম্যাচের নোঙ্গর ফেলেছেন জয়ের বন্দরে। রথী মহারথীও যেনো হার মেনেছে তা কাছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিসের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দলে ছিলেন সাকিব আল হাসান। ৬৮ রানের এক ইনিংস খেলার মধ্য দিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান তিনি। বাংলাদেশে দল ও সে পথ ধরেই হেটেছিলেন। ৩৯৫ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিলেন ক্যারিবীয়দের সামনে। কিন্তু দ্বিতীয় দিন নিজের বলে নিজেই ফিল্ডিং করার সময় ইনজুরিতে পড়েন সাকিব। ফলে এ টেস্টে আর মাঠে দেখা যায়নি বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার কে। পাহাড়সম বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১০/৩ রানে চতুর্থ দিন শেষ করেন ক্যারিবীয়রা।

এ গল্পের শেষ টা যদি এখানে হতো, তাহলে হয়তো বাংলাদেশের জন্য ভালো হতো। জয়ের স্বপ্ন দেখা দেখা বাংলাদেশ কি জানতো! পঞ্চম দিনে অপেক্ষা করছে তাদের জন্য হতাশা। ৭ উইকেটে ২৮৫ রান টপকানো মোটেও সহজ ছিলো না। কিন্তু সেই কঠিন পথটা সহজেই পাড়ি দেন ক্যারিবীয়রা। দিনভর বাংলাদেশী বোলারদের শাসন করলো বোননার মায়ার্সরা।সারাদিনে সবাই মিলে ক্যারিবীয়দের মাত্র চার জনকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়েছেন। তাও আবার শেষ বেলায়। ততখনে যে বড্ড বেশি দেরি হয়ে গেছে। ম্যাচের ভাগ্য তো গড়ে ফেলেছিলো প্রথম দুই সেশনে। কোনো উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করেছিলেন ১৫৬ রান।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, বাংলাদেশী বোলারদের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ দেখেই গেলেন সাকিব। দর্শক হিসাবে উপভোগ করা ছাড়া তার যে কিছুই করার ছিলো না। কত দলকে এ মাটিতে হারের স্বাদ দিয়েছিল তাঁরা। শক্তিশালী ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াকেও প্রথম বারের মত হারিয়েছিলেন। সেই বাংলাদেশই আজ হারের স্বাদ নিলো।

গল্পটা হতে পারতো ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কে হারানোর মত। হতে পারতো দিনটা বাংলাদেশের। তুলনামূলক চাহিদাও ছিলো তুচ্ছ। তবে কোন রাস্তায় পা ফেলবেন, জয়ের পথ টা দেখাবেন কে? কিভাবে ইংলিশদের মত চেপে ধরবেন, কিভাবে করবেন অজি বধের পুনরাবৃত্তি? সেই পথপ্রদর্শকই যে নেই ২২ গজে। যার ফেলানো কদমে অনুসরণ করতে পারতো মিরাজ, তাইজুলরা। তার উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পেতে পারতো দলটা।

সাকিব মাঠে থাকা মানেই এক্সট্রা অর্ডিনারী কাজ করা। পারফর্ম করুক বা না করুক, তার একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে। তার অভাবে দলটা ছিলো আজ মেরুদণ্ডহীন। ছন্নছাড়া দলটাকে ভুগতে হয়েছে একজন অভিভাবকের অভাবে। দলে তার প্রয়োজনীয়তা কতটা তা হয়তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.