সরকারের নতুন আয়োজন ‘সুকুক’-(১ম পর্ব)

৩৪

মোঃ রফিক ভূঁইয়া খোকা
ব্যুরো প্রধান, দৈনিক সাহসী কণ্ঠ
ময়মনসিংহ বিভাগ

সরকার জনগণের নিকট থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য। এগুলো সরকারের অর্থ সংগ্রহের বিভিন্ন উৎস যা সাধারণত ট্রেজারি বন্ড হিসেবে প্রচলিত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশের অর্থায়নের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সরকার ‘সুকুক’ নামক নতুন একটি বন্ড ছেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোতে প্রচলিত বন্ড সুকুক যা শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি বন্ড হিসেবে পরিচিত। সুকুক মূলত ফারসি শব্দ। এর অর্থ ছক। বর্তমানে ইহা নির্ধারিত নিয়মে অর্থ সংগ্রহের দলির হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। অন্যভাবে, সিলমোহর লাগিয়ে কাউকে কোন দায়িত্ব বা অধিকার দেওয়ার ( রাষ্ট্রীয় অর্থ সংগ্রহে) একটি আইনি দলিলের নামই সুকুক যা বিভিন্ন মুসলিম দেশে শরীয়াহ ( ইসলামি) বন্ড হিসেবে চালু আছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের অর্থ সংগ্রহের নতুন একটি উৎস তৈরি হবে। সাধারণত আমাদের দেশে সরকার বাজেটের খরচ মেটানোর জন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রি, ব্যাংক ঋণ ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে থাকে। এছাড়াও সরকার সর্বশেষ সরকারি, অাধা-সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার উদ্বৃত্ত তহবিল থেকেও অর্থ সংগ্রহ করেছিল। যাহোক সরকার চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সুকুকের মাধ্যমে ৮ হাজার কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বন্ড ছাড়া হয়েছে এই সুকুক নামক বন্ডের মাধ্যমে। প্রতিবছর বাজেটের ঘাটতি পূরণের জন্য তুলনামূলকভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্য সকল অর্থশালী ব্যক্তির অর্থ খাটানোর মাধ্যম একেবারেই কম কিংবা তাদেরকে ঘাটতি পূরণ ও কোন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কাজে লাগানোর সুযোগ নেই বললেই চলে সরকারের। আবার সুদের সম্পৃক্ততার বিষয়টির জন্য সরকার সকল নাগরিককে এ ঘাটতি পূরণের কাজে লাগাতেও পারে না, সম্ভবও হয়ে ওঠে না উৎসাহ প্রদানে।
মূলত সে লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার এ ইষলামি বন্ড সুকুকের ব্যবস্থা করেছে। এতে করে সকল পেশা ও শ্রেণীর বিত্তশালী লোকজন ও বেসরকারিভাবে শরিয়াহভিত্তিক শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এ বন্ডের মাধ্যমে ব্যবসা বা লেনদেন করার সুযোগ পাবে। এমন যুক্তিই দেখিয়েছে অর্থ বিভাগ। তখন এর মাধ্যমে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণের নিজেদের যুক্ত করার সুযোগ নিতে পারে সাধারণ জনগণ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠকে এ বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। যেসব প্রকল্পের বিপরীতে সুকুক বন্ড ছাড়া হবে (সেগুলোর সম্পদ চিহ্নিত ও মূল্যায়নের নিরিখে) সেসবের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। পরবর্তিতে এ তালিকা পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরীয়াহ উপদেষ্টা কমিটির কাছে। এ কমিটিই মূলত প্রকল্পগুলো নির্ধারণ করবে। সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক এই কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত প্রকল্পের বিপরীতে সরকারকে সুকুক বন্ড ছাড়ার পরামর্শ দিবে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.