সততা সফলতা ও ধৈর্য্যোর সাথে এগিয়ে যাচ্ছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন কল্যাণী

২৩

জাকারিয়া মাহমুদ প্রিন্স,বরিশাল প্রতিনিধিঃ কল্যাণী একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ।
আমাদের পণ, “দুর্নীতিমুক্ত নির্লোভ জীবন, সেবা ও কল্যাণে আত্মসমর্পণ।”

সুপ্রিয় সম্মানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীগণ,
কল্যাণীর পক্ষ থেকে সালাম ও শুভেচ্ছা । দুনিয়াব্যাপী এই কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আপনারা নিশ্চয়ই সুস্থ আছেন। আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশে করোনা মহামারির এই দুঃসময়েও,পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জ উপজেলার কিছু তরুণ উদ্যোগী হয়ে কল্যাণী নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি তৈরি করেন।

ইতোমধ্যে কল্যাণীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বাবলম্বী নামে প্রথম কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। গত ২২ জুলাই সংগঠনের ইউনিয়ন সমন্বয়কদের সহযোগিতায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রতিটি থেকে দুই/ততোধিক পরিবারের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়। একটি উপকমিটির মাধ্যমে পরিবারগুলোর মধ্য থেকে ছয় ইউনিয়ন থেকে ছয়টি পরিবার (শিক্ষার্থী মেধাবী সন্তান আছে এমন পরিবার) বাছাই করা হয়। গত ২২ জুলাই (২০২০) বুধবার পরিবারগুলোর প্রতিনিধি ও ইউনিয়ন সমন্বয়কদের উপস্থিতিতে সুবিদখালী সরকারি কলেজ মিলনায়তনে।

প্রতিটি পরিবারকে চারটি মুরগি এবং ছয়টি করে বনজ ও ফলজ গাছ উপহার দেওয়া হয়। কল্যাণীর উল্লেখিত স্বাবলম্বী প্রকল্প অনুযায়ী, বাছাই পরিবারগুলোকে সংগঠনের সদস্যভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ-খবর কল্যাণীর ইউনিয়ন সমন্বয়কদের মাধ্যমে রাখা হবে। মুরগি ও গাছগুলোর ফলো-আপ করা হবে। সংগঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, কল্যাণীর সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা ও অনুদানে এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো। বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে, যাতে ধীরে ধীরে তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।

উপজেলার একটি পরিবারও যদি এভাবে দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা আর্থিক সহযোগিতা, কিছুটা মানসিক সহযোগিতা পেয়ে কল্যাণীর সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে তবেই তরুণ এই উদ্যোক্তাদের শ্রম ও প্রচেষ্টা সফল হবে।

ইতোমধ্যে উপজেলার অনেকেই কল্যাণীর শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে ‘মুষ্টি সংগ্রহ পদ্ধতি’র আওতায় ১০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে যে কোনো পরিমাণ সহযোগিতা প্রদান করে কল্যাণীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা সবাই জানি, কবির সেই অমোঘ বাণী, ‘ ছোট বালুকার কণা আর বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।’ কল্যাণী আপনাদের আর্থিক সহযোগিতার প্রতিটি টাকা যাতে মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয় সেই নিশ্চয়তাটুকু দিতে পারবে। পাশাপাশি বিনা লাভে মানবকল্যাণে স্বেচ্ছায় কল্যাণীর সদস্যবৃন্দ পকেটের পয়সা খরচ করে শ্রম দিয়ে যাবে। আমাদের বিশ্বাস, আপনাদের নিস্বার্থ ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে কল্যাণী অনেকদূর যেতে পারবে। সুবিদখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জনাব,মো:আসাদুজ্জামান।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।তিনি এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এই সেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোক্তা,জনাব কাজী জাকির হোসেন সিনিয়র সহকারী সচিব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন,
প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ,
সালাম, শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও আন্তরিক শ্রদ্ধা নেবেন।
২০১৪ সালে তৈরি “মির্জাগঞ্জের সুখ-দুঃখ” শিরোনামে করা এই গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা ২০২০ সালের পহেলা এপ্রিল পর্যন্ত ছিল মাত্র দুজন। ২ এপ্রিল ২০২০ সালে করোনা মহামারি সূচনার প্রথম পর্বে “সচেতন মির্জাগঞ্জবাসী” নাম দিয়ে গ্রুপটি পুনরুজ্জীবিত করি।সদস্য সংগ্রহ করে ১৭ এপ্রিল আমরা প্রথম বৈঠক আয়োজন করি।

“প্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সহকর্মীবৃন্দদের নিয়ে,শতভাগ সততা, বিশ্বস্ততা, দায়বদ্ধতা ও মানবতার প্রতি দরদ নিয়ে আমরা শপথসহ এখানে নিজেদের নিয়োজিত রাখব।”

সংগঠন এখন “কল্যাণী” নামে কার্যক্রম শুরু করেছে।এ পর্যন্ত আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সংখ্যা পঞ্চাশ জেনের ও বেশি।গত কয়েক মাস আমরা একটানা শ্রম দিয়েছি। আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে সেবার প্রতিজ্ঞা নিয়ে কাজ শুরু করি। ইতোমধ্যেই আমরা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। পাশাপাশি কর্মসূচি সমন্বয়ক পরিকল্পনাপত্র তৈরির কাজ শুরু করেছেন। সূচনালগ্নের নিবেদিতপ্রাণ কয়েকজন সংগঠক আমাদের সাথে আর থাকেননি। তাদের অবদান আমরা শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করি। তাদের জন্য ভবিষ্যতেও আমাদের দরোজা উন্মুক্ত থাকবে।

আপনারা আমাদের “মুষ্টি সংগ্রহ পদ্ধতি” অনুযায়ী ১০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে যেকোনো পরিমাণ অর্থ সহায়তা উন্মুক্ত তহবিলে আপনারা ইতোমধ্যেই দিতে শুরু করেছেন। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা আপনাদের প্রতি। আমরা আপনাদের সকলের সার্বিক সহযোগিতা চাই। মূলত আপনাদের এ সহযোগিতা এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে এবং অসহায় মানুষের কল্যাণেই শতভাগ ব্যয় হবে।

এই সংগ এদেশে মহৎ কাজ হয় না দুটো কারণে। এক. এদেশে সহসা মহৎ মানুষ তৈরি হয় না; হলেও তারা পরিবেশ ও সম্মান কোনোটাই পান না। দুই. যতটুকু হয় তারা আবার উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিচ্ছিন্ন থেকে কেউ কেউ কখনো কখনো ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠা পেলেও সামাজিকভাবে নিষ্ফলা হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একথা সত্য।

আমরা আশা করি, মির্জাগঞ্জের মতো একটি সুশিক্ষিত জনপদ থেকে উদার, অহিংস ও মানব হিতৈষী মানুষগুলো সহযোগিতার হাত নিঃস্বার্থভাবে বাড়িয়ে দেবেন এবং নতুন প্রজন্মের সুদক্ষ এই স্বেচ্ছাসেবী সন্তানদের পাশে দাঁড়াবেন।সভাপতি মোসা:তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং আমি কল্যাণীর সাথে আজীবন সেচ্ছায় নিয়জিত থাকবো সঠিক পরামর্শ দিয়ে কল্যাণীকে সততার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাবো,এবং এই কল্যানী সেচ্ছাসেবী উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়েছন।

নির্বাহী সমন্বয়ক জনাব মো: মাহবুবুর রহমান,জনাব মো: আখতারুজ্জামান হিরু,কর্মসূচী সমন্বয়ক,জনাব মো:হাসিব হাওলাদার কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক,জনাব কাজী মো:রফিকুল ইসলাম উপদেষ্টা কল্যাণী,জনাব জাকারিয়া মাহমুদ প্রিন্স ইউনিয়ন সমন্বয়ক, জনাব মো:জয় তারেক ইউনিয়ন সমন্বয়ক, জনাব,মো: সুলতান মাহমুদ উপ নির্বাহী সমন্বয়ক।আজীবন কল্যাণীর এই সেব চলমান থাকবে ইনশাআল্লাহ।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.