শেরপুরের নালিতাবাড়ী ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধিতে যানজট ও দূর্ঘটনা

১৩

মেহেদী হাসান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরে ৫টি উপজেলার মধ্যে অন্যতম ব্যস্ততম উপজেলা নালিতাবাড়ী।এ উপজেলায় ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারনে সড়ক ও মহাসড়কে মৃত্যুর ফাঁদে পরিনত হয়েছে।উপজেলার গ্রাম্য সড়ক থেকে শুরু করে উপজেলার মধ্যে সড়ক ও মহাসড়ক এখন ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও সিএনজির দখলে। শিশু ও অদক্ষ চালকেরা কোন নিয়মনীতি না মেনে উপজেলার সড়কে যেখানে সেখানে ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। তার উপর এসব যানবাহনে লাগানো হয় চোখ ঝলসানে এলইডি লাইট।

চলাচলরত অসংখ্যা ইজিবাইকের কারনে নালিতাবাড়ী বাজার,নন্নী বাজার,পাঁচগাঁও বাজার,নয়াবিল রোড,তারাগঞ্জ দক্ষিণ বাজার,শহীদ মিনার মোড়,গড়কান্দা বাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট খাট বাজার ও এলাকায় প্রতিনিয়ত অসহনীয় যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে।অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, প্রশিক্ষণের অভাব ও সিগনাল না মানার কারনে প্রতিনিয়তই ঘটছে যানজট ও দুর্ঘটনা।

দেখা গেছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে কোন সিগনাল ছাড়াই হঠাৎ করেই গাড়ী ঘুরিয়ে ফেলা হচ্ছে।এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী কলেজ ছাত্র শিবলি বলেন,কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যে যার মতো যখন তখন নতুন ইজিবাইক,অটোরিকসা ক্রয় করে রাস্তায় নামাচ্ছে।আগে ইজিবাইক চায়না থেকে আমদানি করা হতো।এখন শেরপুর,নকলা ও নালিতাবাড়ী সহ বিভিন্ন এলাকায় অটো গ্যারেজ গুলোতে তৈরি হচ্ছে এ সব গাড়ী এ জন্য সহজেই তারা ক্রয় করতে পারছে।

ভুক্তভুগীরা অভিযোগ করে বলেন- রাস্তার ভাঙ্গা চোরা অংশ পরিহার করে ভালো অংশ দিয়ে যায় এ ইজিবাইক, ফলে তারা ঘন ঘন রাস্তায় এপাশ ওপাশ করে পথ চলে এবং একটি গাড়ী অন্য গাড়ীর সাথে পাল্লা দিয়ে আগে যেতে চায়। ঠিক এমন অবস্থায় মোটরসাইকেল সহ দ্রুতগতির পরিবহনের পেছন থেকে আগে উঠতে গেলে ইজিবাইকে ধাক্কা লেগে প্রতিনিয়ত ছোট বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। নালিতাবাড়ী নন্নী বাজার এলাকায় এ যেন প্রতিদিনের চিত্র। সাধারণ পথচারিদের অভিযোগ, ইজিবাইক চালকরা উপজেলার মধ্যে যেখানে সেখানে তাদের বাইক পার্কিং করার কারনে সৃষ্ট যানজটে ২/৪ মিনিটের রাস্তায় কখনও কখনও ২০/২৫ মিনিট সময় লেগে যায় এবং যেখানে সেখানে পার্কিং করার কারনে অনেক দূর্ঘটনার মত পরিবেশ তৈরি হয়।

জানা গেছে- চার-পাঁচ বছর আগেও নালিতাবাড়ী উপজেলায় অল্প কিছু সংখ্যক ইজিবাইক দেখা গেলেও বর্তমানে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে- উপজেলায় যারা ইজিবাইক চালাচ্ছেন, তাদের মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সের কিশোরও রয়েছে।এসব ইজিবাইক এলাকার যে কোন সড়কে চালানোর কোন অনুমতি না থাকলেও যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে দ্রুত গতিতে যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে যাত্রী বহন করছে। এসব ইজিবাইক চালকদের মধ্যে কেউ মাঠের কৃষক, জেলে, শ্রমিক অথবা আগে রিকশা, ভ্যান চালাতেন, কিশোর এবং বিদেশ ফেরত প্রবাসী ও রয়েছেন। এদের শতকরা ৮০ জন চালকই জানেন না কিভাবে রাস্তায় ইজিবাইক চালাতে হয়। তারপরও তারা নিয়মিত সড়ক মহাসড়ক ছাড়াও গ্রামঅঞ্চলের সড়কে ৭ থেকে ৮ জন করে যাত্রী নিয়ে দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়াও বর্তমানে এসব যানবাহনে চালকরা লাগাচ্ছেন চোখ ঝলসানে এলইডি লাইট। রাত্রে যখন এসব যানবাহন এলইডি লাইট জ্বালিয়ে দ্রুত গতিতে চলাচল করে তখন বিপরীত দিক থেকে আসা পথচারী, বাইসাইকেল, মোটর সাইকেল চালকরা সামনে কিছুই দেখতে পারে না।ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.