শিল্পে পিছিয়ে শিক্ষানগরী

৯২

লেখক : কাজল বিশ্বাস।

রাজশাহীতে বড় শিল্প কারখানা কী কী আছে—এই প্রশ্নের জবাবে হয়তো কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে পারবেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বিসিক শিল্পাঞ্চল এলাকায় গড়ে উঠা কয়েকটি তাত কারখানা ও ছোট বড় দু – এক টি ফ্যাক্টরি ছাড়া উল্লেখ্য বৃহৎ কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান নেই এই নগরীতে।

শিল্পের দিক দিয়ে রাজশাহী অন্য জেলা গুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকার কারনে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যাবসায়ীদের নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়। কোন প্রকার দ্রব্য পণ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠান না থাকার কারনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যাবসায়ীদের পড়তে হয় বিপাকে। শহরের নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষদের কর্মসংস্থানের জন্য ছুটতে হচ্ছে অন্য জেলায়। যেসব জেলা রাজশাহী জেলার তুলনায় বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে সেসব জেলা গুলোতেও গড়ে উঠেছে শিল্পকারখানা। শিক্ষাজীবন শেষ করে রাজশাহীর মেধাবী তরুণ – তরুণীদের চাকুরীর উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে হয় ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, যশোর, কুমিল্লার মত জেলা গুলোতে। যা আমাদের রাজশাহী বাসির জন্য দুঃখজনক। রাজশাহীতে পরিলক্ষিত গ্যাস নেই। বিদ্যুতের ঘাটতিও প্রবল। মেধাবী – কর্মঠ মানবসম্পদ, উদ্যোক্তা, সস্তা শ্রম ও জমি থাকার পরও এই জেলায় শিল্পে বিনিয়োগ হয়নি।

স্থানীয় জনমতামত বিবেচনা করলে দেখা যায় রাজশাহী বিভাগে শিল্প গড়ার দিকে সরকারও কখনো নজর দেয়নি। দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) হয়েছে। নতুন করে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, কিন্তু রাজশাহীতে কিছুই হচ্ছে না। এমনকি রাজশাহীতে যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগর আছে, সেটিও অবহেলিত।

শিল্প না থাকায় রাজশাহীর তরুণদের কাজের খোঁজে অন্য জেলায় যেতে হয়। স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রবণতাই হলো সন্তান কর্মক্ষম হলেই তাকে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা অন্য কোনো শহরে কাজের খোঁজে পাঠিয়ে দেয়।

সরকারের কাছে বি আই ই এ রাজশাহী জেলা শাখার নেতৃবৃন্দদের বিনীত আবেদন রাজশাহীতে যেন একটি ইপিজেড স্থাপন করা হয়। রাজশাহীর মধ্যবিত্ত মানুষ ও শিক্ষিত তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান যেন নিজ জেলাতেই হয়। আমাদের যৌক্তিক দাবি পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিল্প মন্ত্রীর বিনীত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.