লক্ষ্মীপুরে অপসংস্কৃতির বলির পাঠা বিবাহিত মেয়েদের পিত্রালয়

৭৭৮

মোঃ সাইফুল ইসলাম

আসছে কোরবানির ঈদ।
বিবাহিত মেয়েটির বাবা দুঃচিন্তা আর নির্ঘুম সময় পার করছেন কিভাবে জামাইয়ের বাড়িতে হাজির হবেন গরু ছাগল নিয়ে।
আবার কেউ হয়তো ধার দেনা করে কোরবানীর উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন জামাইয়ের বাড়িতে।

কিছু বাবা কিংবা তার পরিবার নিজেদের কোরবানীর চিন্তা না করলেও কিভাবে জামাইয়ের বাড়িতে কোরবানীর ব্যবস্হা করা যায় তাই নিয়ে উদ্ধিগ্ন।

মান সম্মান, জাতকুল আর পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য এভাবেই নিজেরা নিঃস্ব হয়ে উজার করে দিচ্ছেন মেয়ের সুখের কথা ভেবে।
শুধু কোরবানীর সময়টুকুতেই এ প্রথা প্রচলিত তা নয়।
বিয়ের সময় কনের জন্য বিশাল অংকের পন,
রমজানের ইফতার সামগ্রী, ঈদুল ফিতরের বাজার সামগ্রী, মধু মাসে ফলের সমারোহ নিয়ে হাজির হয় জামাইয়ের বাড়িতে,
মেয়ের কোনো বাচ্চা হলেও গরু ছাগল কিংবা স্বর্নলংকার নিয়ে হাজির হতে হয় জামাইয়ের বাড়িতে।

এবার সর্বশেষে যোগ হলো কোরবানীর গরু ছাগল।
দারিদ্রতায় নিষ্পেষিত বাবাটাও পরাজয় বরন করে সমাজের এমন নির্মম আর লোমহর্ষক প্রচলিত প্রথার কারনে।
নিরবে সয়ে সয়ে এভাবেই বিলিয়ে দেন অকাতরে।
যে মেয়েটাকে তিলেতিলে পরম আদর স্নেহে বড় করে অনেক টাকা খরচ করে তুলে দেন একজন সৎ প্রাত্রের হাতে।
বিয়ের পরেও সৎ পাত্র আর তার পরিবার বিভিন্ন উপলক্ষ আসলেই চেয়ে থাকে শ্বশুর বাড়ির দিকে।
আবার অনেক সৎ পাত্র ও তার পরিবার সৎ থেকে বেড়িয়ে এসে শ্বশুর ও তার পরিবারকে দিতে দেরী হলে কিংবা না দিতে পারলে ছেড়ে কথা বলছে না।
অপমান আর অপদস্তের দাগ মাড়িয়ে লজ্জিত করতে কুন্ঠাবোধ করে না।
নিরুপয় পরিবারগুলো বন্দী হয়ে আছে সমাজের নোংরা ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরার কারনে।
বদ্ধ গোলক ধাঁধার রোষানলে তিলেতিলে নিষ্পেষিত হচ্ছে প্রতিটাক্ষন।
কবে শেষ হবে শ্বশুরের প্রতি এমন নির্মম জাতাঁকলের।
না মৃত্যুই হতে পারে এমন সমাজের করুন অত্যাচার হতে বাঁচার।

কিন্তু না মৃত্যুও রক্ষা করতে পারছে না বাবা নামক এই বটবৃক্ষটাকে।
মৃত্যুর পরেও চলমান থাকে হিসাবের খাতা।
কোথায় কতোটুকু সম্পত্তি রেখে গেলো আর মেয়েরা কতোটুকু পাবে তার দৌরাত্ম্য নিয়ে।
বিধাতার দেওয়া রহমত হিসাবে পাওয়া কন্যা সন্তান নিয়ে ভুগতে থাকেন লক্ষ্মীপুরের বাবারা।
আর নিলর্জ্জ, বেহায়াপনা আর ভিক্ষার থলি নিয়ে এভাবেই বাবাদের প্রতিদিন লজ্জিত করে কিছু জামাই নামক কসাই আর তার পরিবার।

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.