রাস পূজা ও পূণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে দুবলার চরে যেতে শুরু করেছে সনাতন ধর্মালম্বীরা, রবিবার পূজা ও সোমবার স্নান

৩২

মোঃ ইকরামুল হক রাজিব,ব্যুরোপ্রধান,খুলনা: বঙ্গোপসাগর পাড়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে রবিবার (২৯নভেম্বর) রাস পূর্ণিমার পূজা ও সোমবার পূণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। তাই বনবিভাগের কাছ থেকে পাস-পারমিট নিয়ে শনিবার(২৮নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পূজা ও স্নানের উদ্দেশ্যে দুবলার চরের আলোরকোলে রওনা করেছেন সনাতন ধমার্বলম্বীরা।

এর আগে শুক্রবার বিকেল থেকে মোংলাসহ সংলগ্ন সুন্দরবন ও সাগর উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার সনাতন ধর্মের লোকজন তাদের নৌযান নিয়ে জড়ো হন মোংলার পশুর নদীর চিলা এবং জয়মনিতে।

পূর্ব সুন্দরবনের বগি-বলেশ্বর হয়ে দুবলা ও পশুর নদী হয়ে সরাসরি দুবলা। এই দুই পথ দিয়ে বনবিভাগের বেঁধে দেয়া করোনা বিধি নিষেধ মেনে আলোরকোলে যেতে হবে পূর্ণ্যার্থীদের।

এছাড়া পশ্চিম সুন্দরবন দিয়েও যাওয়ার জন্য রয়েছে আরো তিনটি পথ। এই পাঁচটি পথের বাঁকে বাঁকে থাকবে বনবিভাগের তল্লাশী ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই পথ ব্যতিরেকে অন্যপথে চোরাইভাবে কেউ যাওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে বনবিভাগ।

ঐতিহ্যবাহী রাস মেলা, পূর্ণিমার তিথিতেই হয়ে থাকে। প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের শেষে বা অগ্রহায়ণের প্রথম দিকের ভরা পূর্ণিমার তিথিতে এ রাস পূজা ও স্নান উদযাপিত হয়ে আসছে।

সনাতন (হিন্দু) ধর্মালম্বীরা এ সময় পূর্ণিমার জোয়ারের লোনা পানিতে স্নান করে তাদের পাপ মোচন হবে এমন বিশ্বাস নিয়ে রাস পূজায় যোগ দিয়ে থাকেন।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সুন্দরবনের দুবলার চরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব বা মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। মেলা কিংবা উৎসব ব্যতিরেকে সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীদের এবার শুধু রাস পূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নানে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে বনবিভাগ।

এই সময়ে দুবলার চরে যেতে পারবেনা কোন পর্যটক ও সনাতন ধর্মের লোকজনও ছাড়া অন্য কোন ধর্মের মানুষ। এর আগে ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে কারণে রাস পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষ্যে কোন মেলা বা উৎসব হয়নি।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার শর্তে সাপেক্ষে স্বাস্থ্য বিধি মেনে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা ও পুণ্যস্নানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস পূজা ও ৩০ নভেম্বর সকালে চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পুণ্যস্নানের মধ্যদিয়ে রাস পূজা শেষ হবে। ২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে পূজারীরা সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলের উদ্দেশ্যে ট্রলার ও নৌকা নিয়ে রওনা দিবেন।তিনি আরো বলেন, এর আগে ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে কারণে সেবারও রাস পূজা ও পুণ্যস্নান ছাড়া রাস উৎসব কিংবা কোন মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এছাড়াও সু্ন্দরবনের দুবলার চরে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে নিরাপত্তায় থাকবে কোস্টগার্ড।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও হাজার হাজার হিন্দু তীর্থযাত্রীদের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা যায়। এ উপলক্ষ্যে সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণসহ পূণ্যস্নানে আগত পূণ্যার্থী/তীর্থযাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বদা নজরদারী রাখবে। এ প্রেক্ষিতে উৎসবের পূর্ব হতেই দুবলার চরে যাতায়াতের জন্য বন বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত ০৫ টি রুটের সকল নৌযানে কোস্ট গার্ড ও বনবিভাগ যৌথভাবে তল্লাশীর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ সকল নৌযান যেন সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকার এবং অবৈধভাবে গাছ কাটতে না পারে সে জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোস্ট গার্ড এর বিশেষ টহল অব্যাহত থাকবে।

দুবলার চরে আলোরকোল এলাকার প্রবেশ মুখে অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে তল্লাশী পূর্বক সকল পূণ্যার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একই সাথে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাহাজ স্বাধীন বাংলা এর তত্ত্বাবধানে উক্ত এলাকায় একটি ডুবুরি ও একটি মেডিক্যাল দল সার্বাক্ষণিক টহলে নিয়োজিত থাকবে।যে কোন ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলার জন্য দুবলার চরে কোস্ট গার্ড স্টেশনের নিচতলায় কন্ট্রোল রুম (মোবাইল নম্বর- ০১৫৩৫৮৮৯২০৪ এবং অতিরিক্ত- ০১৭৬৯৪৪৪৩৩৩) স্থাপন করা হয়েছে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম হাবিব উল আলম জানান, রাস পূর্ণিমা উৎসব উদযাপনে কোস্ট গার্ডের নিজস্ব প্রস্তুতির পাশাপাশি র‌্যাব, বনবিভাগ, নৌ পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.