যুক্তি-তর্ক নয় বিশ্বাসই পারে একজনকে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে

২০

জহিরুল ইসলামঃ অন্ধকার দূরীভূত হয়ে সর্বদিকে আলোকোজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত,একজন মানুষকে অন্ধকারের পথ পাড়ি দিতে হলে,তার চেরাগ বা বাতির প্রয়োজন হয়।আবার অন্ধকার পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য কারো কাছে প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক চেরাগ বা বাতি থাকা সত্ত্বেও,সে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। যদি পথটা অপরিচিত হয় কিংবা পূর্ব থেকে গন্তব্যের পথটা যদি অজানা থাকে। তদ্রূপভাবে, দিনের আলোতেও কোনো ব্যক্তি তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না,যদি গন্তব্যে পৌঁছার পথটা পুরোপুরিভাবে জানা না থাকে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একজন মানুষকে দিনের বেলায় তার গন্তব্যে পৌঁছার জন্য পথটা ভালোভাবে জানা থাকলেই হচ্ছে আলোর প্রয়োজন লাগছে না। কারণ,সরাসরি সূর্যের আলো ব্যবহার করতে পারছি। কিন্ত রাতের বেলায়,অন্ধকার পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য পথটা ভালোভাবে জানা থাকার পাশাপাশি অন্ধকার দূরীভূত করার জন্য প্রয়োজনীয় চেরাগ বা বাতির প্রয়োজন হয়।

এখন বলুন তো,এই পৃথিবীতে দিনের বেলায়,সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান সহ অন্যান্য সকল ধর্মাবলম্বীরা কিংবা ধর্ম অবিশ্বাসী কারীরাও কি তাদের গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না?সহজ উত্তর, অবশ্যই আমরা সবাই দিনের আলোকে কাজে লাগিয়ে গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হইতেছি।

কিন্তু রাতের বেলায়, সূর্যের আলো থাকে না। চাঁদের আলোও আমার সব সময় পাই না। আর যা পাই তা পথ চলার জন্য যথেষ্ট নয়। এমতাবস্থায়,আমাদেরকে এই প্রকৃতির আলোর বিকল্প কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ আলো আবিষ্কার করতে হবে।

এখন আমার পরবর্তী আলোচনাটুকু পুরোপুরি বোধগম্য হওয়ার জন্য বিজ্ঞানসম্মত একটি দৃষ্টান্ত খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে।
পুষ্টিবিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা করে আমাদের অবহিত করলেন যে,ভিটামিন আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এই ভিটামিন মানব দেহের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। সুষম খাদ্য উপাদান গুলোর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো দুধ(Milk)। অর্থাৎ দুধে প্রায় প্রয়োজন মাফিক সকল ভিটামিন রয়েছে।

এখন আমার প্রশ্ন হলো,বিজ্ঞানীরা দুধের এই ভিটামিন গুলো আবিষ্কার করার পূর্বে দুধের মধ্যে কি এই ভিটামিন গুলো বিদ্যমান ছিল না?বিজ্ঞানীদের অকাট্য উত্তর, অবশ্যই ছিল।তাহলে বলুন তো,মানব দেহের জন্য প্রয়োজন হবে,এটা ভেবে দুধের মধ্যে এই প্রয়োজনীয় ভিটামিন গুলো দিলেন কে?এখানেও বিজ্ঞানীদের সরল উত্তর,যিনি দুধ সৃষ্টি করেছেন, অর্থাৎ মহান সৃষ্টিকর্তা(Creator)।

তাহলে,বিজ্ঞানীরা শত শত বৎসর গবেষণা করে, আমাদেরকে শুধুমাত্র জানালেন যে,দুধে এই এই ভিটামিন বিদ্যমান আছে।আর ভিটামিন গুলো মানব দেহে কী কী কাজ করে, এটার উত্তর পেতেও লেগে গেল শত শত বৎসর।

সুতরাং মানবজাতির জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সৃষ্টিকর্তা কোটি কোটি বছর পূর্ব থেকেই এই পৃথিবীতে প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন। আমরা, আমাদের বুদ্ধি জ্ঞানকে (সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত) কাজে লাগিয়ে,সেই অনাবিষ্কৃত,গুপ্ত উপাদান গুলো গবেষণা করে আবিষ্কার করি মাত্র। কিছু আবিষ্কার করা হয়েছে,রয়ে গেছে অসংখ্য অনাবিষ্কৃত বস্তু যার জন্য বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে আবিষ্কারের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।অতএব,বিজ্ঞানীরা হলেন আবিষ্কারক(Discoverer), সৃষ্টিকর্তা(Creator) নয়।

এখন আমি আমার পূর্ব আলোচনায় ফিরে যাচ্ছি।
তাহলে,দিনের বেলায় পথ চলার জন্য কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন লাগছে না(যেহেতু সূর্যের আলো আছে)।কিন্তু রাতের বেলায় পথ চলার জন্য কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন লাগে(যেহেতু সূর্যের আলো থাকে না)। তাই বিজ্ঞানীরা শত শত বৎসর গবেষণা করে,প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আবিষ্কার করলেন,কৃত্রিম আলো।

এখন পূর্বোল্লিখিত প্রশ্নটির মতই যদি আপনাদের জিজ্ঞাসা করা হয় যে,আলো আবিষ্কার করার পূর্বে আলো আবিষ্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান কি প্রকৃতিতে বিদ্যমান ছিল না? বিজ্ঞানের সন্দেহাতীত উত্তর, অবশ্যই ছিল। তাহলে পৃথিবীতে এই প্রকৃতির মাঝে আলো আবিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান গুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখলেন কে? বিজ্ঞানের সরল উত্তর, যিনি উপাদান গুলো সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ মহান সৃষ্টিকর্তা(Creator)।

সুতরাং আমরা বলতে পারি যে,দিনের বেলায় সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি সূর্য থেকে প্রত্যক্ষভাবে আলো ব্যবহার করে আমরা নির্বিঘ্নে পথ চলছি। আবার আমরা সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির,কিছু উপাদানের রুপ পরিবর্তন করে, আলো আবিষ্কার করছি রাতের বেলায় নির্বিঘ্নে পথ চলার জন্য। আর এই সুবিধাগুলো গ্রহণ করছেন না, এমন মানুষ কি এই পৃথিবীতে আছেন? সহজ উত্তর, অবশ্যই নাই অর্থাৎ ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষ সকলেই ব্যবহার করছি।

এখন আপনারা বলুন তো,এই পৃথিবীতে সুস্থভাবে জীবন-যাপনের করার জন্য কোটি কোটি বৎসর পূর্বে যিনি আমাদের জন্য এত কিছুর আয়োজন করে রাখলেন,সেই মহান সৃষ্টিকর্তাকে কৃতজ্ঞতাস্বরুপ ধন্যবাদ জানানো কি উচিত নয়?
একজন সুস্থমস্তিষ্কের স্বাভাবিক মানুষও বলবে,অবশ্যই তাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত।

তাহলে আপনি,আমি কিভাবে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে পারি? উত্তর হলো, তিনি যেই পথ দেখিয়ে দিয়েছেন সেই পথে। তাহলে আমরা সেই পথের সঠিক শিক্ষা কোথায় থেকে অর্জন করব? এর সঠিক উত্তর হলো,সৃষ্টির নির্মিত কোনো গ্রন্থ থেকে নয় বরং সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত ধর্মগ্রন্থ থেকে।

এটা বলার সাথে সাথেই একদল লোক ১৮০ ডিগ্রি বেঁকে বসবেন। তাদের যুক্তি হলো,সকল কিছু প্রকৃতির দান যা অটোমেটিক্যালি প্রকৃতিতে উৎপন্ন হচ্ছে। যুক্তিবিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণ করা যায় না, এমন কিছু তারা বিশ্বাসও করবেন না। তাই এই যুক্তি বিজ্ঞানের যুগে, এমন সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টান্ত বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছু নয়।

আমাদের দ্বন্দ্বটা এখানেই। একদল এক সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী তারা সৃষ্টিকর্তার হুকুম প্রতিষ্ঠায় সদা জাগ্রত। অন্য দল এগুলোকে ভ্রান্ত(পুরোপুরি বা আংশিকভাবে) বলে, বিশ্বাস করতে রাজি নয়। এমন পরিস্থিতির কারণেই, আমরা একে অপরকে দোষারোপ করছি। একদল অন্য দলের ধ্বংস কামনা করছি। যার ফলশ্রুতিতে,দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। এর প্রভাবেই অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে(সৃষ্টিকর্তা না করুন)।বহির্বিশ্বেও এই দুই দলের রেষারেষির করণেই পৃথিবীতে কৃত্রিমভাবে তৈরি হচ্ছে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.