মোল্লাহাটে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ

৪৪

পার্থ রায়, উপজেলা প্রতিনিধি,মোল্লাহাট, বাগেরহাটঃ-

মোল্লাহাটে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সরকার ঘোষিত তারিখেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে এক যোগে এ সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা খোলা হবে। উপজেলার প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় আবার মুখরিত হয়ে উঠবে শিক্ষাঙ্গন।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২টি ইফতেদায়ী স্বতন্ত্র মাদ্রাসা ও ১৫ টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে স্কুল বন্ধের পূর্বের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৬ হাজার ২৫জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেঝে ও দেয়াল স্যাঁতসেঁতে ও নোনা লেগে পলেস্টারা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের চত্তরে আবর্জনা জমে গিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ ঘোষণার পর এগুলো ঠিক করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্তাবধানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে শিক্ষা অফিস নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার ১৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ০৬টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ০৫টি দাখিল মাদ্রাসা,০২ টি আলিম আলিয়া মাদ্রাসা ও ০৬টি কলেজে ১৮ হাজার ৩ শত শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিশোর কুমার রায় দৈনিক সাহসী কন্ঠ কে জানান,আমার স্কুলে ৩০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুল বন্ধের সময় প্রায় ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাসে অংশ গ্রহন করেছে। আশা করছি বেশীরভাগ শিক্ষার্থী স্কুল খুললে ক্লাসে আসবে। প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বর্তমানে স্কুলে না আসার জন্য বলা হয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস হবে এবং অন্য শ্রেণিগুলো পর্যায়ক্রমে সপ্তাহে একদিন পাঠদান হবে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য মাস্ক দেওয়া হবে। এছাড়াও থার্মাল মেশিনে তাপমাত্রা মেপে ক্লাসে এক বেঞ্চে দু’জন করে বসানো হবে।

উপজেলার একমাত্র সরকারি ওয়াজেদ মেমোরিয়াল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ফরিদ আহমেদ দৈনিক সাহসী কন্ঠ কে জানান, ইতোমধ্যে স্কুল খোলার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ মাস পর স্কুল খোলায় যেন ঈদের আনন্দ লাগছে। আমার স্কুলে ১৫ শত শিক্ষার্থী আছে। তারা স্কুলে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে। আগামী ১২ তারিখ ব্যতিক্রম কিছু নিয়ে স্কুল খুলে সবাইকে চমকে দিব।

উপজেলার এতিহ্যবাহী দারিয়ালা কে কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোল্লা জমির হোসেন দৈনিক সাহসী কন্ঠ কে জানান, আমার স্কুলের সকল ক্লাস রুম, মেঝে, আঙিনা ধুয়ে মুছে ও জীবানুনাশক স্প্রে করে প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আইসোলেশন রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাসে আসতে হবে, যদি কারো মাস্ক না থাকে তাহলে স্কুল থেকে মাস্ক দেওয়া হবে।

উপজেলার সরকারি ওয়াজেদ মেমোরিয়াল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী প্রান্ত রায় দৈনিক সাহসী কন্ঠ কে জানান, আগামী ১২ তারিখ স্কুল খুলবে শুনে আমার খুব আনন্দ লাগছে, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার পর আবার স্কুলে যেতে পারবো। এখন শুধু অপেক্ষা ১২ তারিখ কখন আসবে।

উপজেলার কুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম দৈনিক সাহসী কন্ঠ কে জানান, অনেক দিন পরে স্কুল খুলছে তাই আমার কাছে ঈদের আনন্দ লাগছে। স্কুল খুললে আমি নিয়মিত স্কুলে যাব এবং মনোযোগ নিয়ে লেখাপড়া করবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, জানি করোনার ঝুকি আছে তবুও ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে হবে। দীর্ঘদিন ছেলে মেয়েরা স্কুলে না যাওয়ায় একঘেয়েমী হয়ে গেছে। মোবাইলে ও ইন্টারনেটে আসক্তি হচ্ছে। স্কুল খুললে তাদের মোবাইলে আসক্তি কমে যাবে এবং লেখা পড়ায় মনোযোগী হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ কামরুননেছা দৈনিক সাহসী কন্ঠ কে জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ১১ দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছে। আমরা সেগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে বাস্তবায়ন করার জন্য দিয়েছি। ইতোমধ্যে সরেজমিনে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখেছি তারা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছে। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে মাস্ক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও তাপমাত্রা মাপার মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে একটি করে আইসোলেশন সেন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন দৈনিক সাহসী কন্ঠ কে জানান, ইতোমধ্যে স্কুলের আঙিনা, মেঝে, শ্রেণিকক্ষ, টয়লেট, বেসিন ইত্যাদি পরিস্কার করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মাল মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিধি মেনে ৩ ফিট দুরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা শ্রেণী কক্ষে বসবে। ইতোমধ্যে উপজেলার বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। সকল প্রতিষ্ঠানে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, উপজেলার প্রায় ৯২ ভাগ শিক্ষক টিকা নিয়েছে। কিছু শিক্ষক শারিরিক জটিলতার কারণে টিকা নিতে পারেনি। সুস্থ্য হলে তারাও টিকা নিবেন।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.