মোটা ও ফর্সা হবার জন্য ঔষধের মোড়কে বিষ খাচ্ছে তরুন-তরুণীরা

বিশেষজ্ঞরা যা বলেন

৪৫

রাসেল আদিত্য :

সাম্প্রতিক সময়ে তরুন-তরুণীরা স্বাস্থ্য ভালো করতে কেউবা রং ফর্সা করতে কোন প্রকার ডাক্তারের পরামর্শ
ছাড়াই বিভিন্ন হারবাল ঔষধ ও ক্রীম ব্যবহারের দিকে
ঝুঁকছে ব্যাপক ভাবে।সেই ঔষধ সেবনের পনেরো দিনের ভেতরেই স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের বিশাল পরিবর্তন
লক্ষ্য করা যায়।এতে করে উদ্বুদ্ধ হয়ে বন্ধু স্বজন বা আশেপাশের ছেলেমেয়েরাও ঝুঁকছে ওসব ঔষধের দিকে।বিশেষ করে নারায়ণগন্জ ও মুন্সিগঞ্জের তরুণ তরুণীদের মাঝে এসব ঔষধ ব্যবহারের প্রবনতার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।এসব ঔষধের প্যাকেটের গায়ে ভিটামিন শব্দটি বেশ হাইলাইট করা থাকে।ভয়াবহ তথ্য
হলো প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী কোম্পানি হিসেবে যে নাম ব্যবহার করা হয়,এই প্রতিবেদক পাঁচটি কোম্পানির উপর বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান করে একটিরও অস্তিত্ব খুঁজে পাননি।আবার সকল ঔষধের দোকানে এগুলো বিক্রিও হয়না।মুষ্টিমেয় কিছু দোকানে এগুলো পাওয়া যায়।হাবিবুর(২০) নামের এক তরুণ দৈনিক সাহসীকন্ঠকে বলেন,দিনে দুই বেলা দুটো ক্যাপসুল ট্যাবলেট খেতে হয়।এটা খেলে প্রচুর ক্ষুধা লাগে,এতো পরিমান খেতে হয় যা নিজের কাছেই অবাক লাগে। আমি দুই ফাইল খেয়েছি।আর আশাতীত ফলও
পেয়েছি।কোন ডাক্তারের পরামর্শে এটা নিচ্ছে প্রশ্ন করলে হাবিবুর জানায়,বন্ধুদের পরিবর্তন দেখে ওঁদের থেকে ঔষধের নাম জেনে খাওয়া শুরু করি।কোন প্বার্শ
প্রতিক্রিয়া হয়েছে কিনা প্রশ্নে বলে,নাহ্,গুড ফিল করছি।নারায়ণগঞ্জ শহর ও বিভিন্ন মহল্লার ঔষধ বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হেলফিট,পুদিনা, রুচিনীড,গ্যালাকটো,প্লাবিড,আমলকি,জিওভিটা,সেব এস নামের ঔষধের চাহিদাই বেশি বলে জানা যায়।
শহরতলীর ঔষধ বিক্রেতা মিজান জানান,পাইকারী ৪০
থেকে ৫৫ টাকায় কিনে আড়াইশো হতে চারশো টাকা বিক্রি হয় এসব ঔষধ।তিনি এ জাতীয় ঔষধ বিক্রি করেন না জানিয়ে এ প্রতিবেদককে প্রশ্ন করে বলেন,
৪০-৫৫ টাকায় বিক্রি করে কোম্পানি লাভ করে,বোতল
আর প্যাকেট তৈরির খরচ আছে,এবার বুঝে নিন ঔষধের নামে কি আর দেয়া সম্ভব?
অনুসন্ধানে দেখা যায়,দেশের কোন স্বীকৃত আয়ূর্বেদ কোম্পানী এসব ঔষধ বাজারজাত করেনা।সুরমা ল্যাবরেটরিজ,নেচারফার্মাসিউটিক্যালস(ইইউ)লিঃ,
জেসিআই বাংলাদেশ, বোটানিক ল্যাবরেটরিজ ইত্যাদি
অখ্যাত কোম্পানিগুলো এসব ঔষধ বাজারজাত করে।
গুগলে সার্চ করে এঁদের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়।কিন্তু সেই নম্বরে কল দিলে তিনটি ফোনই
বন্ধ পাওয়া যায়।অনুসন্ধানের জন্য প্রতিবেদক সুরমা ল্যাবরেটরিজের ঠিকানা ১২০/১,মতিঝিলে গিয়ে সেখানে এই নামের কোন কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পাননি।
আশেপাশের কেউ কোন তথ্য দিতে পারেননি।
মিডফোর্ড হাসপাতালের সিনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ আরিফুর রহমান এর নিকট প্রশ্ন করেছিলাম এসব
ঔষধ সেবনে কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে কিনা মানুষের?বেশ গভীর ভাবে তিনি প্যাকেটের গায়ে লেখা
উপাদানগুলো দেখেন।তারপর বলেন,কমপক্ষে পনেরোটি মেজর ক্ষতির কথা বলতে পারি।তবে নিশ্চিত ভাবে এসব সেবনকারী ব্যক্তির কিডনি যে বিকল হবে তা শতভাগ নিশ্চিত।তাছাড়া চোখের দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়া,যৌনশক্তি ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা সহ বিভিন্ন অসুখে পতিত হবে সেবনকারী।
জেলায় এক বছর আগে সিভিল সার্জন হিসেবে কর্মরত
থাকলেও বর্তমানে সরকার গঠিত একটি গবেষণা দলের
নেতৃত্ব দেওয়া ডাঃ ইমতিয়াজ আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন,
এসব ঔষধ মানব দেহের উপর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকারক
প্রভাব ফেলে।যদিও শুরুতে এগুলো বেশ উদ্দীপনার সৃষ্টি করে মস্তিষ্কে,সাময়িক ক্ষুধা বৃদ্ধি,শরীর ফুলে যায়।
আর এসব দেখেই মানুষ আকৃষ্ট হয়ে কোন চিকিৎসকের
পরামর্শ ছাড়াই খেতে শুরু করে।প্রকৃত অর্থে আত্মাহুতির সূচনা করে।তিনি আরও জানান,খেয়াল করে দেখবেন ওসব ঔষধের কোন বৈধতা নেই বাজারজাত করার।একটি অসাধু চক্র গোপনে এসব ঔষধ নিদৃষ্ট দোকানে সরবরাহ করে।অধিক মুনাফার লোভে সেই দোকানীরাও গোপনেই তা বিক্রি করে থাকে।
তিনি সকল অভিভাবকদের সচেতন হয়ে সন্তানকে এই জাতীয় ঔষধ বর্জনে উৎসাহিত করতে ও তরুণ তরুণীদেরকে স্মার্ট হয়ে এগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার
আহবান জানান।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মশিউর রহমান
এই প্রতিবেদককে এগুলোর ক্ষতিকর প্রভাবের কথা জানিয়ে বলেন,আমাদের সন্তানদেরকে এসকল বিষ থেকে মুক্ত রাখতে করনীয় সবকিছুই করার ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।একই সাথে জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয় নিয়ে খবর প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর ভাষায় ঈমানী দায়িত্ব পালন করায় প্রতিবেদক ও দৈনিক সাহসীকন্ঠ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.