ভোলা সদর হাসপাতালে রোগী ধারণক্ষমতা নেই পুরাতন ভবনে

৪৭

এইচ এ শরীফ, ভোলা সদর প্রতিনিধি :

কয়েক দিন থেকে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ভারী কুয়াশায় জনজীবন বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে ভোলায়। শীতের তীব্রতা বাড়ার কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হতে হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়া শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এছাড়াও বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এমন বৈরী আবহাওয়ায় প্রতিদিন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলছে। শিশু ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যা ২৪টি থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে ৫০-৭০ জন।

ফলে এক বেডে ২ থেকে ৩ জন করে রাখতে হচ্ছে রোগী। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ড অপরিষ্কার থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীর স্বজনরা।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে ভোলা সদর হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৩৭ শিশু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। যার মধ্যে বেশির ভাগই নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহে ভোলা হাসপাতালে ৩ শতাধিক শিশু ভর্তি হয়েছে।

এরমধ্যে অধিকাংশ শিশু নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত। যার মধ্যে নিউমোনিয়ায় ৭ জানুয়ারি বোরহানউদ্দিন উপজেলার শিশু ও ১৩ জানুয়ারি ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুদের রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ হাসপাতালে এসে ঠিকমতো চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছে না তারা। পাশাপাশি শয্যাসংকটের কারণে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে মেঝেতে। হাসপাতালে নোংরা পরিবেশের সঙ্গে ঠিকমতো ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না তারা।

শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স (ইনচার্জ) মৌসুমি রায় জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগী বেড়েছে। প্রতিদিনই ছাড়পত্রের তুলনায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এতে করে হাসপাতালে জনবল কম থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অভিভাবকদের শীতের সময়ে নবজাতকের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে ভোলা সদর হাসপাতাল সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডা. সালাউদ্দিন জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুদের শীতজনিত রোগের প্রকোপ একটু বৃদ্ধি পায়। এই সময় বাচ্চাদের নিউমোনিয়া থেকে বাঁচাতে হলে গরম কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে তাতে করে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নিরুপম সরকার জানান, শিশু রোগীদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার ও শিশুবিশেষজ্ঞ রয়েছে। তবে প্রতিদিনের রোগীর তুলনায় শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংকট রয়েছে। শিশু ওয়ার্ড অপরিষ্কারের বিষয়টি মূলত একই স্থানে ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ রোগী অবস্থান করায় এমনটা হয়েছে।

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.