ভাসানচর

মোঃ রফিক ভূঁইয়া খোকা,ব্যুরো প্রধান,ময়মনসিংহঃ ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে থাকে। তাদের প্রত্যাবাসন বা আশ্রয়স্থল নতুনকরে ভাসানচরে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে এই চরের নাম ওঠে এসেছে। ভাসানচর মূলত একটি দ্বীপ। দ্বীপটি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের অন্তর্গত। মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা দ্বীপ ভাসানচরে আশ্রয় পেতে যাচ্ছে এ দেশে আগত মিয়ানমারের বসতভিটা বঞ্চিত রোহিঙ্গাদের একাংশ। রোহিঙ্গা মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা রাখাইন অঞ্চলের অধিবাসী। এই তো সেদিন যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশ থেকেও ১৯৭১ – এ অন্য দেশে শরনার্থী ছিল।

আর আজ আমাদের দেশেও আশ্রয় পেয়েছে লক্ষ লক্ষ শরনার্থী। গড়ে তুলেছে সরকার তাদের জন্য আশ্রয় শিবির। ধন্যবাদ জানাই এ দেশের এ মহা মানবিকতাকে। কৃতজ্ঞতা জানাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এ দুঃসাহাসিক কাজকে। ভাসানচরের আয়তন ২৫ বর্গমাইল ( ৬৬ বর্গ কিমি)। বাংলাদেশ সরকার বিচ্ছিন্ন এ ভাসানচরে অস্থায়ীভাবে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোষণার পর এ চরকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করার জন্য নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। এমনকি ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ভাসানচরে একটি থানা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের ভিত্তিতে বর্তমানে এখানে একটি থানা আছে। বর্তমানে এ থানার ওসি মাহে আলম। একসময়ের জনমানবশূন্য ভাসানচর যা ২০ বছর আগে জেগে ওঠা একটি চর। চরটি হাতিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিমি পূর্বে, নোয়াখালী জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিমি ও উপকূলীয় উপজেলা সুবর্ণচর উপজেলা হতে প্রায় ৫০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে এবং চট্টগ্রাম জেলার সন্দীপ উপজেলার পশ্চিম দিক থেকে ৫ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত। এ চরটি মূলত দু’টি চর ( ঠেঙ্গারচর ও জালিয়ারচর) নিয়ে গঠিত হলেও ইহা একটি চর যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় ভাসানচর নামকরণ হয়। বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ টি শরনার্থী ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ( বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী) ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন। তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৪৮ শতাংশ এবং মহিলা ৫২ শতাংশ। শিশুর সংখ্যা ৫৫ ভাগ। এতিম ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন। জানা যায়, এদেন মধ্যে ৭ হাজার ৭৭১ জন তাদের পিতামাতাকে হারিয়েছে। সরকার রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত বিষয়টি চিন্তা করে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ক্রমান্বয়ে একাধিক ধাপে ভাসানচরে স্থানান্তরিত করছে। আর সে থেকেই আঞ্চলিক, জাতীয়, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাসানচর নিয়ে আলোচনা- পর্যালোচনা।

তথাপি বিরোধী দল, অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প করেছে। এতে ১২০ টি গুচ্ছগ্রাম রয়েছে। এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় ( আরআরআরসি) -এর সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে আগত রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের চতুর্থ ধাপ নিয়ে এপর্যন্ত ৭,২০২ জন পৌঁছেছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় রয়েছেন নৌবাহিনীর সদস্যরা। জোয়ার- ভাটার হাত থেকে রক্ষার জন্য স্থানে স্থানে বালু ফেলে উঁচু করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক যা অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য। এ ছাড়াও বহুমুখী আরো পদক্ষেপ নেওয়ায় ভাসানচর হয়ে ওঠেছে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি বিশেষ পুনর্বাসনকেন্দ্র।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.