ব্ল্যাক আউট

৩৫

খলিলুর রহমান সোহেল,জেলা প্রতিনিধি,ললক্ষীপুরঃ ইলেক্ট্রিক্যাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে ব্ল্যাক-আউট একটি কমন শব্দ। গত ৯ই জানুয়ারি ২০২১ তারিখে পাকিস্থান ব্ল্যাক-আউটের সম্মুখীন হয়। উক্ত ব্ল্যাক-আউটের কারণে পাকিস্থানের ৯০% মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

২০১৪ সালের ১লা নভেম্বর বাংলাদেশ প্রথম দেশব্যাপী ব্ল্যাক-আউটের শিকার হয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দেশের ১৫কোটি মানুষ। বড় ধরনের কোন বৈদ্যুতিক ত্রুটি ঘটলে, বিশাল কোন পাওয়ার প্লান্ট/ট্রান্সমিশন লাইনে ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেলে, লোডের অস্বাভাবিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে, প্রটেকশন রীলে ঠিকসময়ে কাজ না করলে, বিকল্প পাওয়ার সোর্স/লাইন না থাকলে; ব্ল্যাক-আউট হতে পারে। সাধারণত লোডের সাথে পাওয়ার প্লান্টের উৎপাদন সমন্বয় করে লোড ডেসপাচ সেন্টার। হঠাৎ উৎপাদন বেড়ে গেলে বা লোড কমে গেলে ফ্রিকোয়েন্সী এবং ভোল্টেজ বেড়ে যায়। আবার চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হলে ফ্রিকোয়েন্সী ও ভোল্টেজ কমে যায়।

উৎপাদন যদি সবসময়ই কম থাকে, তখন গ্রিডকে ব্ল্যাক-আউট থেকে রক্ষা করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেয়া হয়। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকলে, FGMO (Free Governor Mode Operation) যুক্ত পাওয়ার প্লান্টের উৎপাদন কমিয়ে-বাড়িয়ে ফ্রিকুয়েন্সী ও ভোল্টেজ স্থির রাখা হয়। আবার উৎপাদন কমে গেলে, ফুয়েল সংকট দেখা দিলে, লোড হঠাৎ বেড়ে গেলে; আন্ডার ফ্রিকুয়েন্সি রীলে সচল হয়ে কিছু ডিস্ট্রিবিউশন ফিডার অফ করে দেয়। ফলে গ্রিড ব্ল্যাক-আউট থেকে রক্ষা পায়।

সাধারণত ৩৩কেভি/১১কেভি ফিডার ট্রিপ করলে একটি দেশের গ্রিড ভোল্টেজ বা ফ্রিকোয়েন্সীতে খুব একটা পরিবর্তন হয় না। কিন্তু ১৩২কেভি, ২৩০কেভি, ৪০০কেভি, ৭৬৫কেভি লাইন ট্রিপ করলে; বিশাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন বন্ধ হয়ে যায়৷ ফলে একাধিক উপকেন্দ্র শাটডাউনে চলে যেতে পারে। যার প্রভাব গ্রিডের উপর পড়ে। কারণ ২৩০কেভি, ৪০০কেভি এবং ৭৬৫কেভি লাইন ৩০০-২০০০মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। ফলে বিকল্প লাইন কিংবা রিং সিস্টেম না থাকলে; একটি লাইন ট্রিপ করলেই ফ্রিকোয়েন্সি ও ভোল্টেজের বিশাল পরিবর্তন ঘটে। অন্যদিকে বড় আকারের পাওয়ার প্লান্ট ট্রিপ করলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।

একটি গ্রিড যতবেশি আধুনিক, ব্ল্যাক-আউট প্রতিরোধ ক্ষমতা তত বেশি হয়ে থাকে। সাবস্টেশান, গ্রিড এবং পাওয়ার প্লান্টে পর্যাপ্ত প্রটেকশন সিস্টেম থাকেঃ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ফল্ট মোকাবিলা করার জন্য।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ৫টি ব্ল্যাক-আউটের সবগুলোই ঘটেছে দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশের ব্ল্যাক-আউটের ঘটনাটি বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম ব্ল্যাক-আউটের ঘটনা। ২০১২ সালে ভারতে সংগঠিত ব্ল্যাক-আউটের ফলে ২২টি রাজ্যের ৬২কোটি মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যা ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ব্ল্যাক-আউটের ঘটনা ছিল।

লোডশেডিং একপ্রকার ব্ল্যাক-আউট; যা পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে করা হয়। ভোল্টেজের হঠাৎ উত্থান-পতনকে ব্রাউন-আউট বলা হয়।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.