বুলেট ট্রেনে মাত্র ৫৫ মিনিটেই ঢাকা-চট্টগ্রাম

১৫

মোঃ আল-আমিন সরকার, ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৩২১ কিলোমিটার এই পথে যেতে সময় লাগে অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা। আর ছয় থেকে আট ঘণ্টা নয়, বুলেট ট্রেনে মাত্র ৫৫ মিনিটেই যাওয়া যাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম।

তারই ধারাবাহিকতায় বুলেট ট্রেনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকা থেকে বন্দরনগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ করতে রুটে বুলেট ট্রেন চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের জন্য নেওয়া প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ। চূড়ান্ত নকশা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। উচ্চগতির এ রেলসেবা চালু হলে ৬ ঘণ্টা নয়, ননস্টপে মাত্র ৫৫ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে।

রুট ম্যাপ অনুযায়ী প্রস্তাবিত রেলপথে মোট ছয়টি স্টেশন রয়েছে। সেগুলো হলো: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, পাহাড়তলী ও চট্টগ্রাম। যদি এসব স্টেশনে ৩ মিনিট করে থামে তাহলে আরও ১৮ মিনিট সময় বেশি লাগবে। সেক্ষেত্রে ৭৩ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম পৌঁছানো যাবে। আর যদি না থামে তাহলে ৫৫ মিনিটেই চট্টগ্রাম টু ঢাকা। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর থামবে কি থামবে না- এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, পাহাড়তলী ও চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব দাঁড়ায় ৩২১ কিলোমিটার। উচ্চগতির ট্রেনের জন্য ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা রুটটি ব্যবহার করা হবে না, সরাসির ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ তারপর কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে বুলেট ট্রেন। অর্থাৎ ৯৪ কিলোমিটার পথ কম পাড়ি দিতে হবে ট্রেনটির। এক্ষেত্রে উচ্চগতির রেলপথ দাঁড়াবে ২২৭ কিলোমিটার।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চগতির এ ট্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। আর দিনে প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে। এই রেলের জন্য যাত্রীদের কিলোমিটার প্রতি প্রায় দশ টাকা ভাড়া ধার্যের কথা বলছেন পরামর্শকরা। এর জন্য একজন যাত্রীকে ভাড়া গুণতে হবে ২ হাজার টাকার মতো। যা বাংলাদেশের চলমান আন্তঃনগর এসি চেয়ার এর ভাড়া তিন গুণ। তবে এ নিয়ে আবারো বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মার্চে অনুমোদন পাওয়া এ ট্রেনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ।যৌথভাবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার কাজ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন (চীন) এবং মজুমদার এন্টারপ্রাইজ (বাংলাদেশ)। বর্তমানে এর বিশদ নকশা তৈরির কাজ চলছে। যার জন্য ব্যয় হবে শত কোটি টাকার বেশি। জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পটির নকশা তৈরির কাজও শেষ হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন জানান, ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে এসে নকশা চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশনের প্রতিনিধিরা। এরপর ব্যায়ের বিষয়টি নির্ধারণ করে অনুমোদনের জন্য একনেকে যাবে প্রকল্পটি। অনুমোদন পাওয়ার পর কাজ শুরু হবে।

প্রকল্পটির জন্য ৬৬৮ দশমিক ২৪ হেক্টর জমির প্রয়োজন হবে, ফলে এটি বাস্তবায়নে রেলওয়েকে ৪৬৪ দশমিক ২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, বুলেট ট্রেনটি চালু হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বিরাট ভূমিকা পালন করবে। কীভাবে দ্রুত কাজ শেষ করা যায়, এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

সমীক্ষা প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১০০ কোটি ৬৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের ০১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু ডলারের দাম ও পরামর্শক খাতে ব্যয় বৃ্দ্ধির কারণে পিছিয়ে যায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রকল্প। সমীক্ষা প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এখন পরবর্তী মূল প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে বুলেট ট্রেনে ভ্রমণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েক বছর।

গত বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথটি সম্প্রসারিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, যদি প্রকল্পটি কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয় তাহলে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প কে ছাড়িয়ে এটিই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যয়বহুল একক প্রকল্প। এদিকে দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষেরও চাওয়া এই রেলপথটি যেন কক্সবাজার পর্যন্ত নেওয়া হয়। এতে করে পর্যটকদের যেমন অনেক সুবিধা হবে তেমনি কম সময়ে রাজধানী ঢাকা থেকে কক্সবাজার সহ আরো যে সকল ইকোট্যুরিজম হচ্ছে সেখানে যেতে পারবে মানুষ।

বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যে সকল আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করতেছে সেসকল ট্রেনগুলোর গতি ঘণ্টায় মাত্র ৭০ কিলোমিটার। দ্রুতগতির ট্রেন চালু হলে সময় কমার পাশাপাশি মহাসড়কে এ রুটে যাত্রী চাপ কমবে। আর বাড়বে রেলের আয় এমন আশা রেলপথ মন্ত্রীর।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.