বিশ্বযুদ্ধ শেষে দীর্ঘ ২৮ বছরের আক্ষেপ ঘুছলো মেসি বাহিনীর

১২৫

মেহেদী হাসান সজীব, খেলা ডেস্কঃ

ফুটবল বিশ্ব সবচেয়ে জমজমাট এক লড়াই দেখলো আজ। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসলো আর্জেন্টিনা। আগে থেকেই আশংকা ছিল তুমুল এক লড়াই হবে ব্রাজিলের মারকানা স্টুডিয়ামে। আর সেই বিশ্বযুদ্ধের তুমুল লড়াই শেষে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। আর এই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বড় কোনো আসরের ট্রপি না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুছলো মেসির। ২৮ বছর পর আরেকবার হাসলো আর্জেন্টাইন বাহিনী এবং হাসলো তাদের সমর্থক বাহিনী।

খেলার শুরুতেই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি পাল্টাপাল্টি আক্রমণ হলে ও কোন দলই গোলের দেখা পায় নি। ১৩তমও মিনিটে ব্রাজিল একটি দারুণ সুযোগ পেলে ও কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচ যখন ২২ মিনিটে পৌঁছায় ঠিক তখনই ব্রাজিলের জালে বল প্রবেশ করে। গোলের দেখে পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ২২তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি আসে আনহেল দি মারিয়ার পা থেকে। এই ২২তম মিনিটেই নিজেদের প্রথম আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। নিজেদের অর্ধ থেকে লম্বা করে ডান প্রান্তে আড়াআড়ি পাস দেন রদ্রিগো দে পল। বল ক্লিয়ার করার সুযোগ থাকলেও ব্যর্থ হন লেফট-ব্যাক রেনান লোদি। দারুণ প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে চিপ করে গোলরক্ষক এদারসনের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান দি মারিয়া।

৩৪তম মিনিটে ভালো জায়গায় ফ্রি-কিক পায় ব্রাজিল। তবে সামনে থাকা রক্ষণপ্রাচীরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন নেইমার। ৪২তম ও মিনিটে এভারতন আরেকটি সুযোগ তৈরি করলে ও আর্জেন্টিনার গোল রক্ষক মার্টিনেজ কে ভেদ করে গোলের বার পর্যন্ত পৌছানো সম্ভব হয় নি। প্রথমার্ধের বাকি অংশে গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফ্রেদের বদলে রবার্তো ফিরমিনোকে মাঠে নামান ব্রাজিলের কোচ তিতে। এর ৩ মিনিট পরেই রিচার্লিসন আক্রমণ শানান আর্জেন্টিনার বক্সে। কিন্তু আক্রমণ ব্যর্থ হয়। তবে ৫২তম মিনিটে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ান রিচার্লিসন। তবে অফসাইডের জন্য গোল বাতিল হয়। ৩ মিনিট পরে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের আরও একটি আক্রমণ প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক। ৭৯তম মিনিটে একসঙ্গে তিনজন বদলি ফুটবলারকে মাঠে নামায় আর্জেন্টিনা। রোমেরো, দি মারিয়া ও লওতারো মার্টিনেসকে তুলে নিয়ে তারা মাঠে নামায় পেজেল্লা, পালাসিয়স ও গঞ্জালেসকে। ৭৬ মিনিটে রেনান লোদি ও পাকুয়েতাকে তুলে নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নামায় এমারসন ও বারবোসাকে। ৮৫ মিনিটের মাথায় নেইমারের কর্ণার কিক থেকে হেডে আর্জেন্তিনার জালে বল জড়ানোর চেষ্টা করেন থিয়াগো সিলভা। তবে তাঁর হেডার ক্রসবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। ৮৯ মিনিটের মাথায় গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মেসি। ৬ গজ দূরত্ব থেকে ব্রাজিলের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেই আর্জেন্টিনা লিড বাড়িয়ে নিতে পারত। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-০ গোলে শেষ হাসি হাসলো মেসি বাহিনী।

খেলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ-

ম্যাচের শুরু থেকেই ফাউলে ভরপুর ছিল ম্যাচটি। পুরো ম্যাচে ২২ বার ফাউল করেছে ব্রাজিল, ১৯ বার ফাউল করেছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা শর্ট করেছে ছয়টি আর ব্রাজিল ১৩ টি। অন টার্গেটে উভয় দলই ২ টি করে শর্ট করেছে। ৯০ মিনিটের খেলায় ৬০ শতাংশ সময় বল ছিল ব্রাজিলের দখলে অন্যদিকে আর্জেন্টিনার দখলে ছিল ৪০ শতাংশ সময়। আর কোনো দলই লাল কার্ড না খেলে ও ব্রাজিল হলুদ কার্ড খেয়েছে ৪ টি আর আর্জেন্টিনা খেয়েছে ৫ টি হলুদ কার্ড। আর্জেন্টিনা কর্নার মারার সুযোগ পেয়েছে ১ টি আর ব্রাজিল পেয়েছে ৪ টি। পুরো ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা পাস মেরেছে ৩৪৫ টি আর ব্রাজিল ৪৮৮ টি।

আর্জেন্টিনা এইবার চ্যাম্পিয়নের মধ্য দিয়ে ২৮ বছর পর ১৫ বার শিরোপা ঘরে নেওয়ার স্বাদ নিলো। আর মেসির হাতে ও উঠলো প্রথমবারের মত জাতীয় দলের বড় কোনো ট্রপি। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ট্রপি না পাওয়ার আক্ষেপ ও ঘুছলো। আর্জেন্টিনা এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা সমান সমান ১৫বার কোপা শিরোপা জয় করে নিলো। পর ৯টি শিরোপা নিয়ে কোপা তৃতীয় সেরা দল ব্রাজিল। এছাড়া ২টি করে শিরোপা জিতেছে প্যারাগুয়ে, চিলি ও পেরু। কলম্বিয়া ও পেরু জিতেছে একটি করে।

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.