বিলুপ্তির পথে গাজীপুর এর ঐতিহ্য

১৯

মোঃ আতিক হাসান,গাজীপুর প্রতিনিধিঃ একসময় গাজীপুরের প্রায় সকল এলাকাতেই মাটির ঘর ছিলো। সচরাচর এখন আর মাটির ঘর চোখে পড়ে না।

ঐতিহ্যের এই অংশটি ধীরে ধীরে স্থান পাচ্ছে স্মৃতির পাতায়।
একসময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ছিল মাটির ঘর। কিন্তু ইট-পাথরের দালানের ভিড়ে তা দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান প্রজন্মের অর্থশালীরা বাপ-দাদার ঐতিহ্য বহনকারী মাটির ঘর ভেঙে লোহা-সিমেন্টের বিলাসবহুল বাড়ি বানানোর দিকে ঝুঁকেছেন। ততটা সামর্থ্য না থাকলে নিদেনপক্ষে টিনের বেড়া আর টিনের চালা দিয়ে বানানো হচ্ছে ঝকঝকে ঘরবাড়ি।

জানা যায়, মাটির সহজলভ্যতা, প্রয়োজনীয় উপকরণের প্রতুলতা আর শ্রমিক খরচ কম হওয়ায় আগের দিনে মানুষ মাটির ঘর বানাতে আগ্রহী ছিল।

এ ছাড়া টিনের ঘরের তুলনায় মাটির ঘর অনেক বেশি আরামদায়ক। তীব্র শীতে ঘরের ভেতরটা থাকে বেশ উষ্ণ। আবার প্রচণ্ড গরমেও ঘরের ভেতর থাকে তুলনামূলক শীতল।

এ জন্য গজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাটির ঘরের আধিক্য ছিল বেশি। এর ব্যতিক্রম ছিল ফটিকছড়ি উপজেলাও। কিন্তু সেখানে এখন মাটির ঘরের দেখা মেলাই ভার।

গ্রামের মানুষও এখন ঝুঁকছে ইট আর লোহা-সিমেন্টের পাকা বাড়ি নির্মাণের দিকে।

এ অবস্থায় মাটির ঘর বিলুপ্ত হতে চলেছে। মাটির সঙ্গে পাটের আঁশ, প্রয়োজনীয় কংক্রিট, তক্তা ও বাঁশের ফালা ব্যবহার করে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম মাটির বাড়ি বানানো যায়।

গাজীপুরের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে মানুষকে মাটির বাড়ির গুণগত মান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন ও আগ্রহী করে তুলতে হবে। তাছাড়া আমরা জানি মাটির ঘরে গরমকালে ঠান্ডা ও শীতকালে গরম অনুভূত হয় এখানে। এ ছাড়া বসবাসও আরামদায়ক।

তবে এখনো গাজীপুরের শ্রীপুর, কালীগঞ্জ, কাপাসিয়ায় এখনো কিছু মাটির ঘর লক্ষ্য করা যায় ।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.