বিজয়ের হাসি (পর্ব-৮):স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন

লেখক,জহিরুল ইসলামঃ স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা আরো বেশি কঠিন। স্বাধীনতার মত মস্তবড় দৌলত পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সদ্য স্বাধীন জাতি-গোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্খার প্রাসাদকে ধূলিস্যাত করে,নিদিষ্ট কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠীর সাধ-জল্পনাকে প্রাধান্য দেওয়া,ভবিষ্যৎ স্বাধীনরাষ্ট্রের জন্য শুভলক্ষণ নয়।

নিদিষ্ট ভৌগোলিক ভূখণ্ড স্বাধীন করার পর ব্যক্তি মনের স্বাধীনতা বিপক্ষ শত জল্পনা-কল্পনাকে ধূলিস্যাত করে,স্বাধীনতার পক্ষে অটুট থেকে পুরো জাতি-গোষ্ঠীর কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত সাধ পৌঁছে দেওয়াই ব্যক্তির আত্ম স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতার চেতনা স্বাধীন দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই থাকা প্রয়োজন।কোনো কিছুর প্রতি অন্ধ ভালোবাসা বর্জন করা জরুরি।কারণ এই ভালোবাসায় শুধু আত্মপক্ষই কাজ করে বিধায়,বোধশক্তি লোপ পায়।তেমনি স্বাধীনতার ভালোবাসায় অন্ধত্বের আসন দৃঢ় হলে, সেই জাতি-গোষ্ঠীর বিবেকই লোপ পায়।

১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীসভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।এই অস্থায়ী মন্ত্রীসভা দেশে যুদ্ধ পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের কাজে মনোনিবেশ করেন।পাক হানাদার বাহিনীরা বাংলার মাটি থেকে চিরতরে বিদায় নিতে শুরু করে। এর মধ্যদিয়ে যেন,পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের এই বাংলায় স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হয়।
পুরো বাংলায় গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের সূর্য উদিত হলেও রাজশাহী জেলায় তখনও উত্তোলিত হয়নি লাল সবুজের স্বাধীন পতাকা।

আজ ১৮ ডিসেম্বর রাজশাহী শত্রুমুক্ত দিবস। এইদিন মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত চেষ্টায় রাজশাহী জেলা থেকে পাকিস্তানী সেনাদের হঠিয়ে চিরবিদায় করেন।মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সাথে হাজারো রাজশাহীবাসী একত্র হয়ে উত্তোলন করেন,স্বাধীন দেশের লাল সবুজের পতাকা।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.