বিজয়ের হাসি (পর্ব -৩)

২৭

লেখক : জহিরুল ইসলাম: ১২ ডিসেম্বর ১৯৭১,লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা, লন্ডনের ১০ নম্বর স্ট্রিটে সমবেত হন।কয়েকটি দেশের অবন্ধুসুলভ আচরণ ও তাদের শক্তির দাপটকে উপেক্ষা করে;অবস্থানরত বাঙালীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রদান করেন।

তৎকালীন লেবার পার্টির এমপি পিটার মোর ও জন স্টোন বাংলাদেশকে অবিলম্বে স্বীকৃতি ও প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণেরর পাশাপাশি বৈদেশিক বিভিন্ন দেশের চাপও পশ্চিম পাকিস্তানের উপর উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তান যখন বীর বাঙালীদের সাথে পেরে উঠিতেছিল না,ঠিক তখনই তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহযোগীতা কামনা করে।

১২ ডিসেম্বর ১৯৭১,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে তাদের সপ্তম নৌবহর পাঠানোর ঘোষনা দেন। কিন্ত সাথে সাথেই তৎকালীন আরেক পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও তাদের নৌবহরকে বঙ্গোপসাগরে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন।তাছাড়া,আফ্রিকা ও জাপান থেকেও সাবমেরিন তেলবাহী জাহাজ এগোতে শুরু করে।সোভিয়েত ইউনিয়নের অনড় অবস্থান ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সপ্তম নৌবহরের যাত্রার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হন। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্ববাসীকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে,এটি বিচ্ছিন্নতাবাদী কোনো আন্দোলন নয় বরং বাঙালীরা তাদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করছে।

বিশ্ববাসী বাঙালীদের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে সহযোগীতা ও উৎসাহ দিতে থাকেন। পশ্চিম পাকিস্তানের শত জল্পনা-কল্পনা ও আশা-আকাঙ্খার প্রাসাদকে ধূলিস্যাত করে,তাদের শক্তির দাপটকে মিসমার করে,১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর বীরদর্পে অকুতোভয় বাঙালী সৈনিকরা কক্সবাজার ও নরসিংদী জেলায় উত্তোলন করেন,স্বাধীন দেশের লাল সবুজের পতাকা।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.