বিজয়ের হাসি (পর্ব-১৪) স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ভারতের অবস্থান ছিল স্পষ্ট

লেখক,জহিরুল ইসলামঃ ১৯৭১ সালের ৩১ ডিসেম্বর কলকাতায় এক সরকারি মুখপাত্র জানান,আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমস্ত সৈন্যদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
অন্যদিকে একই দিনে নয়াদিল্লীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইন্ধীরা গান্ধী বলেন,বাংলাদেশে গণহত্যার দায়ে পাকিস্তানী সৈন্য বাহিনীদের বিচারের উদ্দেশ্যে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে কি-না, তা বাংলাদেশের সরকারই ঠিক করবে।

স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ভারতের অবস্থান ছিল স্পষ্ট। ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৭১ সালেই পূর্ণ স্বাধীন দেশ থেকে তাদের সৈন্য বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা ছিল অকৃত্রিম মধুর বন্ধুত্বের নতুন মাত্রা।কিন্তু প্রতিটি বন্ধুত্বের মাঝে থাকে ডিস্টেম্পারের(সুন্দর ও চাকচিক্যের রঙিন প্রলেপ) ক্ষণস্থায়ী প্রলেপ। এই ডিস্টেম্পারের ধোঁকায় পড়ে আধুনিক বিংশ শতাব্দী থেকে একাবিংশ শতাব্দীর মাঝেই পৃথিবীতে অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে বা এর ফাঁদে পড়ে অনেক জাতির ভবিষ্যৎ আশা-আকাঙ্ক্ষাই বরবাদ হয়ে গেছে।

বন্ধুত্বের এমন ধ্বংসাত্মক ভাবাদর্শের কীর্তি দেখে প্রতিবেশী বন্ধু তো আক্কেল গুড়ুম।প্রতিবেশী বন্ধুর এখন আর বুঝতে বাকি নেই যে,সামান্য সময়ের আনন্দের মজার মধ্যে হাজার হাজার বিপদ-আপদ এবং হাজার হাজার দুঃখ-কষ্ট ও লাঞ্ছনা লুকিয়ে রেখেছিল আমারই অকৃত্রিম বন্ধু!

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা(বি এস এফ)আত্মরক্ষার কথা বলে বছরের পর বছর শারীরিক নির্যাতন কিংবা গুলি করে বাংলাদেশীদের হত্যা করেই যাচ্ছে। একটি তথ্য বলছে,২০০৯ সাল থেকে ২০২০ এর মার্চ পর্যন্ত ৫২২ জন বাংলাদেশীকে বি এস এফ বাহিনীরা সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে। স্থানীয় হিসাবে এই হত্যার সংখ্যা বহুগুণ বেশি।এর মাঝে ২০১৯ সালে যেন তারা হত্যার নেশায় মেতে উঠেছিল।

এই সীমান্ত হত্যা যেন হাজারো প্রাণের বেদনা, জ্বালাময় দীর্ঘনিঃশ্বাস, অনুতাপ-অনুশোচনা, হ্নদয়ের বিষণ্নতা আর বিদীর্ণতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।তাই ৩১শে ডিসেম্বর বিজয়ের মাসের শেষ দিনে আমরা আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু ভারতকে বলতে চাই,তারা যেন এই সীমান্ত হত্যা অনতিবিলম্বে বন্ধ করেন।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.