বিজয়ের হাসি (পর্ব-১২) নেতার মান যদি নিঃস্বার্থ হয় তা হলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে

২০

লেখক,জহিরুল ইসলামঃ শিক্ষিত,অর্ধশিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত সাচ্চা আশেক যদি কোন নেতার হুকুম,নেতার মান কিংবা নেতার ফরমানকে অকুণ্ঠচিত্তে প্রীতিভরে নির্লোভ-নিঃস্বার্থভাবে মেনে নিতে পারেন,তবে নেতা কেন সেই ভক্ত ও খাঁটি প্রেমিকের মনে আঘাত দিয়ে তার ইচ্ছার বাসনাকে নিছক অহেতুক ভেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান!জাতির বিবেকের জ্যোতি যদি অন্ধত্বের কালোছায়া দ্বারা আচ্ছন্ন না হয়,তবে জ্ঞানী-সম্মানী বলে দাবীকারী সেই নেতার নেতৃত্বের জীবনা-ইতিহাস অন্ধ আর মুর্খের ইতিহাস বলেই জাতি ঘৃণাভরে স্মরণ করবে।সেই নেতার কপালে জুটবে বিশ্রী-বীভৎস অভিশাপের তকমা।

যৌবনের প্রারম্ভে কিংবা পূর্ণ যৌবনে সর্বস্ব বিসর্জন আর অবিরত চেষ্টায় অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে যাদের অবদান ছিল অপরিসীম;তবে তাদেরকেই কেন নেতা কিংবা পথচারীর কাছে হাত পেতে অর্থ চেয়ে জীবনধারন করতে হয়!
তবে কী!ভূখণ্ডের রাজা কিংবা মুকুট পরিহিত ব্যক্তির কাছে সর্বস্ব উৎসর্গকারী ব্যক্তির প্রেম-ভালোবাসার মূল্য একেবারেই সস্তার পণ্য!

বিভিন্ন জনসমাগমপূর্ণ স্থান, যেমন,শহুরে পার্ক,ব্যস্ত বাজার,বাস কিংবা ট্রেন স্টেশনে ভিক্ষা করে জীবনযাপন করছে শত শত অশতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধা (আশির উপরে বয়স)।
নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বৎসরের পর বৎসর নেতার আশার বাণীতে সয়লাব থাকে।কিন্তু পাল্টেনি বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সেই ভিক্ষাবৃত্তির জীবনযাপনের ধরন।ক্ষীণ আলোতে যেমন স্বপ্নপুরীতে অন্ধকার নেমে আসে,সাঙ্গ হয় জীবনানন্দ।তেমনি অকৃতজ্ঞরা যদি স্বাধীনতার পতাকা আঁকড়ে ধরে,তবে সাঙ্গ হবে অমূল্য সেই স্বাধীনতার জাতীয়তাবাদ।

তাই আমি বিজয়ের মাসে সৃষ্টিকর্তাকে সাক্ষী রেখে বলছি,তুমি নেতা!তোমাদের ধন-দৌলত,মন্ত্রীত্ব,রাজত্ব,রাজমুকুট কিংবা রাজকীয় আসন-ফ্যাশন এই হতদরিদ্র নিঃস্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধার অভিশাপে মাটির উপরে পড়েই একদিন মাটি হয়ে যাবে।সেইদিন সেই মাটির উপরে দাঁড়িয়েই জাতি রচনা করবে তোমার নেতৃত্বের কালো ইতিহাস।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.