বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থান হাটে শীতের সবজিতে ভরপুর ভালো দাম পেয়ে কৃষক খুশি

১০

জহিরুলইসলা, বগুড়াঃ শীতের আগমন হালকা উপভোগ করলেও সবজিতে ভরপুর বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানের প্রসিদ্ধ সবজির হাট। শীতের শুরুতে আগাম সবজির দাম চড়া হলেও চলতি সপ্তাহে তা কমতে শুরু করেছে। এনিয়ে অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা। উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত মহাস্থানের সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এহাটের সবজি প্রতিদিন অর্ধশত ট্রাক যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
শীতের আগাম জাতের সবজি চাষে ভালো দাম মিলছে। এ অঞ্চলের চাষীরা সবজি চাষে ঝুকে পড়েন অনেক আগে থেকেই। কিন্তু এবার টানা বর্ষার কারণে শীতের আগাম ফসল বাজার জাত করতে অনেকে হিমশিম খেয়েছেন। যে-কারণে এবার শীতের মৌসুমি সবজি এক জোয়ারে উঠেছে। এজন্য আমদানী বাড়ার সাথে সাথে দাম অনেকটা কমে এসেছে বলে চাষীরা জানান।

বগুড়ার সদরের লাহিড়ীপাড়ার চাষি আমজাদ হোসেন,গোলাম রব্বানী,রায়নগর ইউনিয়নের বাউলাপাড়া গ্রামের সফল কৃষক ফজলুর রহমান সহ অনেক কৃষক জানান, বর্ষা শুরুতে একই জমিতে তিন বার সবজি চাষ করেছি। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সব ফসলের গোড়ায় পানি জমে পঁচন ধরে নষ্ট হয়েছে। শীতের শুরুতে আবারও সবজি চাষ করে বাজারে নিয়ে এসেছি। গড়-মহাস্থান গ্রামের ইউপি সদস্য সবজি চাষি আলাউদ্দিন মন্ডল জানান, প্রতি বছরে শীতের আগাম সবজি আমি আগে হাটে তুলি। কিন্তু এবার বিরূপ আবহাওয়ার কারনে থমকে গেছি। এবার আমাদের এলাকায় সবাই এক সাথে সবজি চাষ করার কারনে বাজারে পর্যাপ্ত আমদানি। এক সপ্তাহর ব্যবধানে দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

মহাস্থান হাটের পাইকার লিয়াকত আলী জানান, প্রতিদিন প্রায় ১ট্রাক করে সবজি মহাস্থান হাট থেকে তিনি কিনেন। আগাম জাতের সবজি আসার শুরুতে দাম ছিল অনেক বেশি। এখন সবজির আদমানি বেশি, দাম স্বাভাবিক এজন্য পুঁজি লাগছে কম। এ হাট থেকে অনেক পাইকার সবজি কিনে তারা দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করার পাশাপাশি খুচরা বিক্রি করে থাকেন।

বগুড়ার মহাস্থান হাটের সবজি প্রতিদিন ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ, ফেনি, সিলেট অঞ্চলের বাজারে যাচ্ছে। বরিবার সকালে মহাস্থান হাটে গিয়ে দেখা যায়, শতশত নারী ও পুরুষ শ্রমিকেরা বস্তায় ভরাচ্ছেন সবজি। সেগুলো আবার ট্রাকে তুলছে শ্রমিকেরা। মহাস্থানের পাইকার রেজাউল ইসলাম জানান, দাগওয়ালা বা সাইজে ছোট ফুলকপি অনেকেই নিতে চায় না। এজন্য বাছাই করে কাগজে মুড়িয়ে ঢোপ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে অন্য জেলার জন্য অত বাছাই করতে হয় না।
এখন তারা ফুঁলকপি, পাতাকপি, মুলা এবং লাউ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন।

মহাস্থান পাইকারী কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১০ দিন আগে যে ফুলকপির দাম ছিল ৬০-৭০ টাকা কেজি। এখন প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকায়, বাধাঁকপি ১৫টাকা, মুলা ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি, শিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়, প্রতি কেজি বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, লাউ ১৫ থেকে ২০ টাকা, ঢেঁড়শ ২০ টাকা, পটল ২০ থেকে ২৫ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পালংশাক ১০টাকা, ধনেশাক ৩৫ টাকা কেজি।

বুধবার ও শনিবার সাপ্তাহিক হাট বার ছাড়াও প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ হাটের বেচাকেনা।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সু-নির্দিষ্ট পরিচালনায় ক্রেতা বিক্রেতায় বেশ জমে উঠেছে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.