ফোনে কথা বলতে বলতেই মোবাইল ছিনতাইঃ বিশ্বরোড এয়ারপোর্ট এরিয়া

৪৭

মোঃ আরমান হোসেন,ঢাকা উওরঃ ফোনে কথা বলতে বলতেই মোবাইল ছিনতাই বিশ্বরোড এয়ারপোর্ট এরিয়া। মোঃ মনিরুল হোসেন নামে একজন ব্যক্তি সন্ধ্যা আনুমানি ৬.৩০ মিনিটে ফোনে কথা বলতে বলতে বিশ্বরোড ফুট পাথ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন,তার বাসার দিকে হঠাৎ ৪ থেকে ৫ জন ছিনতাইকারী ব্যক্তি তার পথ গতিরোধ করে কোন কিছু বোঝার আগেই তার কাছ থেকে জোরপূর্বক করে ভিভো y12 নামে একটি ফোন কেড়ে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই পালিয়ে যায়। অসহায় ব্যক্তি ছিনতাইকারীদের অনুরোধ করে তার মোবাইলের সিম দুইটা খুলে দিতে,কিন্তু তারা তার কোনো কথা শুনে নাই। দ্রুত চলে যায় ছিনতাইকারী দল। উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি কে এ বিষয় জিজ্ঞাসা করলে,সাহসী কন্ঠ প্রতিনিধি কে জানায়, এই ধরনের ঘটনা প্রায় প্রায়ই ঘটে। তারা এটাও বলে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য তারা প্রশাসনের সহায়তা চায়। এটি হল ঢাকায় মোবাইল ছিনতাইয়ের প্রতিদিনকার অসংখ্য ঘটনার একটি। স্মার্টফোন চুরি বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপের পকেটমারের জন্যে কুখ্যাত শহর বার্সালোনা কিংবা অভিনব ছিনতাইয়ের শহর আমস্টারডাম সর্বত্রই মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। বিশ্বব্যাপী মোবাইল চুরির আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। তবে ঢাকায় মোবাইল ছিনতাইয়ের বিষয়টি বিচ্ছিন্ন ধরণের নয়, বেশ ভয়াবহ মাত্রার। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে প্রায় জিম্মি হয়ে আছে জনগণ।

ছিনতাই বা চুরির কাজটি করেন অভিজ্ঞ ছিনতাইকারী বা চোরেরা। হাত বদল হওয়ার পর দ্রুত মোবাইলটি চলে যায় আইটি বিষয়ে জ্ঞান আছে এমন একটি শিক্ষিত চক্রের হাতে। এবং ফোনটি সাথে সাথেই ডাটা মুছে যায়।
মোবাইল ফোন ছিনতাইকারীরা কতটা বেপরোয়া তা বুঝা যায় বাংলাদেশে ব্যবহৃত মোবাইল বিক্রির অনলাইনে বিজ্ঞাপনগুলো দেখে। এমন অসংখ্য বিজ্ঞাপন আছে,তাতে ভালো ভালো ব্রান্ড ও আধুনিক মোবাইল বিক্রির অফার দেওয়া আছে মাত্র ১০-১৫ হাজার টাকায়। চার্জারবিহীন, বক্সবিহীন, ইয়ারফোনবিহীন,লক হয়ে আছে এমন সেট বিক্রির বিজ্ঞাপনগুলোই বলে দেয় সেটটির মালিকানা সন্দেহজনক বা চুরির মাল। নজরদারীর অভাবে অনলাইনের এই বিজ্ঞাপন দাতারা যোগাযোগের জন্যে ফোন নাম্বার দিয়েও ছিনতাই হয়ে যাওয়া একটি মোবাইল অনেক হাত বদল হয়। আসল ক্রিমিনালকে ধরা অনেকসময় সহজসাধ্য নয়। কমদামে শুধু সেটটি বিক্রির বিজ্ঞাপন যারা দেন তাদের ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একটু খোঁজ নিলে কেঁচো খুজতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের আস্তানাটিও বের হয়ে আসতে পারে। শোনা যায়,এই চক্রটির নেটওয়ার্ক সীমান্তের বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত।

আগেই বলেছি মোবাইল চুরির ঘটনা সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বড় সমস্যা। তবে বাংলাদেশে এর মাত্রা অনেক ভয়াবহ এবং সম্ভবত একটি সিন্ডিকেটেড ক্রাইম গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত। যে চুরি বা ছিনতাই করছে,সে হয়তো মাদকাসক্তির জন্যে বা হাতখরচের জন্যে কিছু টাকা পাচ্ছে, কিন্তু মূল নাটেরগুরুরা আইটি শিক্ষায় শিক্ষিত।

50% LikesVS
50% Dislikes
1 Comment
  1. Md.Arman Hossain says

    আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই সাহসী কন্ঠ কে এই টাইপের নিউজ থেকে মানুষ সাবধানতা ও সতর্কিত হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.