প্রথম ধাপে টিকা পাবেন স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ দেশের প্রথমসারির যোদ্ধারা -প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট, মেহেদী হাসান সজীবঃ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে বিশ্বের ৫৪তম দেশ হিসেবে ভ্যাকসিন প্রয়োগের সূচনা করেছে বাংলাদেশ। গত ২৭ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এক স্বাস্থ্যকর্মী সহ শুরুতে ৫ জন ভ্যাকসিন গ্রহন করেছেন।

আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারী সারাদেশে ভ্যাকসিন পুরোদমে প্রয়োগ শুরু হবে। উক্ত ভ্যাকসিন কারা কারা পাচ্ছেন, তা জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, প্রথম ধাপে করোনাসংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত চার লাখ ৫২ হাজার ২৭ জন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী টিকা পাবেন। এ ছাড়া করোনা স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত সব অনুমোদিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ত আরও ছয় লাখ স্বাস্থ্যকর্মী পাচ্ছেন টিকা। রয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধাও।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে টিকা পাবেন পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ জন সম্মুখসারির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯১৩ জন সদস্য।
তালিকায় রয়েছেন রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য কার্যালয়ে কর্মরত ৫০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ছাড়াও রয়েছেন ৫০ হাজার গণমাধ্যমকর্মী।

তালিকায় আরও রয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৮ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সম্মুখসারির ১ লাখ ৫০ হাজার কর্মী, ৫ লাখ ৪১ হাজার ধর্মীয় প্রতিনিধি, মরদেহ সৎকারে নিয়োজিত ৭৫ হাজার ব্যক্তি, ৪ লাখ জরুরি পানি, গ্যাস, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবহন কর্মচারী।

এ ছাড়া ১ লাখ ৫০ হাজার স্থল, নৌ ও বন্দর কর্মী, ১ লাখ ২০ হাজার প্রবাসী অদক্ষ শ্রমিক, জেলা ও উপজেলাগুলোতে জরুরি জনসেবায় সম্পৃক্ত ৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬২১ ব্যাংক কর্মকর্তা, স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জনগোষ্ঠী (যক্ষ্মা, এইডস, ক্যানসার রোগী) ৬ লাখ ২৫ হাজার জন প্রথম ধাপে টিকা পাবেন।

এ ধাপে আরও টিকা পাবেন ১ কোটি ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৫৮ জন ৬৪ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ব্যক্তি, ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী ১৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৩ জন, ২১ হাজার ৮৬৩ জন ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি খেলোয়াড় এবং বাফার, ইমারজেন্সি আউটব্রেকে কাজ করা ১ লাখ ৭০ হাজার জন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় ৯২টি দেশের মত বাংলাদেশেও মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ টিকা পাবে। তাতে ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য টিকার ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ আসতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা ও দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই টিকাদানের অগ্রাধিকার তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে দেশের জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ (মোট ১ কোটি ৫০ লাখ) মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এক কোটি ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭৩ জনকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার জন্য এরইমধ্যে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, সেরাম ইন্সটিটিউটের সাথে চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬ মাসের মধ্যে মোট তিন কোটি ডোজ টিকার সরবরাহ পাওয়া যাবে। এর বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও টিকা কেনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.