পুলিশের তহবিলের অর্থায়নে গৃহনির্মাণ, মন ভালো করে দেবার মতো একটি বাস্তব গল্প শুনুন

৭৭

রাসেল আদিত্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

মুন্সিগঞ্জ থেকে ফিরছি।রাত সাড়ে নয়টা তখন।২৫শে নভেম্বরের বৃহস্পতিবার। বাসার কাছাকাছি তথা নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন সৈয়দপুর আসতেই জটলা দেখে দাঁড়াই।স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব জসিমউদদীন আহমেদকে ঘিরে সবাই দাঁড়িয়ে।সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করছিলাম,তখনই নেতার ফোন বেজে উঠলো।কথা শেষ করে উনি বললেন, চলো ফকিরবাড়ী মসজিদের সামনে (মুন্সিগন্জ-ঢাকা সড়কে) কিসের মালামাল যেনো এসেছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা যেতে রিকোয়েস্ট করলো।গিয়ে বিশাল এক ট্রাক দেখতে পাই মসজিদের সামনে ফাঁকা জায়গায়। আশেপাশে কয়েকজন পুলিশ দাঁড়িয়ে।
জসিম সাহেবকে দেখে এগিয়ে এলেন পুলিশের এক এসআই।সালাম দিয়ে বললেন,একটি দরিদ্র পরিবারের আমানত এই গৃহ নির্মান সামগ্রীগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি জায়গার ব্যবস্থা করে দিতে।জসিম সাহেব জায়গার ব্যবস্থা করে দিলে ট্রাকের ত্রিপল খোলা হলো।সংগীয় কেউ একজন, এগুলো কি জানতে চাইলে জসিম সাহেব বললেন, প্রধানমন্ত্রীর গৃহায়ণ…। পুরো কথা বলার আগেই পুলিশের এসআই বললেন, আপনি যে প্রকল্পের কথা বলতে চাইছেন, এগুলো সেই প্রকল্পের নয়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে আমাদের আইজি স্যার নিজ ও পুলিশের তহবিলের অর্থায়নে দেশের ৫৭০টি থানায় একটি করে দরিদ্র পরিবারের জন্য গৃহনির্মাণ করে দেবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।সেই ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের সদর থানার মালামাল নিয়ে এসেছি।আপনার
(জসিম সাহেবের) সুপারিশ করা পরিবারটিই সিলেক্ট হইছে। তাই আপনাকে কষ্ট দিচ্ছি। আমার সাংবাদিক সত্তা কৌতুহলী হয়ে ওঠে।
জানতে চাই, কি কি আছে এখানে? এসআই বললেন, সিমেন্ট বিশ বস্তুা,ব্লক
৬০০পিস,রড ১বান্ডিল,আরএফএল দরজা ২টি,টিনের দরজা ১টি,জানালা
২টি।টিন আসবে পরে।
অন্ধকারে থাকা ট্রাকের মালামালের ছবি তুলবার লোভ সামলাতে পারলাম না। মোবাইলে অস্পষ্ট ছবি হলেও তুললাম।
এসআই এর কাছে জানতে চাইলাম, কোত্থেকে এনেছেন এগুলো?বললেন,
পুলিশ হেড কোয়ার্টারস থেকে। কয়জন এসেছেন? বললেন ৫জন।কবে থেকে শুরু হয়েছে এই মহতি কাজ?বললেন,
কয়েক মাস হলো।৭৫%শেষ বলতে পারেন।এটা সফলভাবে শেষ হলে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম হাতে নেবার সিদ্ধান্ত হয়ে আছে।তিনি মালামালের রশিদ দেখালেন জসিম সাহেবকে।বললেন, ব্লক ৬০০লেখা থাকলেও আছে ৫০টি বেশি।
এটা কেনো?আমি প্রশ্ন করি।উনি বললেন, যাত্রাপথে ব্লক কিছু ভেঙে যাবার আশংকা থাকে।যেনো শর্ট না পড়ে, সেজন্য অতিরিক্ত ৫০টি দেওয়া হয়েছে।
মুগ্ধতা নিয়ে বললাম, মহতি এই উদ্যোগের জন্য আপনাদের আইজি মহোদয় সহ পুরো বাহিনীর জন্য থাকলো ভালোবাসা।আরও এমন কাজ যেনো আপনারা বেশি বেশি করতে পারেন সেই দোয়া থাকলো। জসিম সাহেব তাঁদের আপ্যায়িত করছিলেন আর আমি বিদায় নিয়ে বাসায় ফিরে আসি গল্পটা আপনাদের শোনাবো বলে।
(অস্পষ্ট ছবি দুটোই দিলাম, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.