পিরোজপুরে গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুন

২৪

সঞ্জয় বৈরাগী, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি : পিরোজপুরে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড় (স্থানীয় ভাষায় ‘নাড়া’) এর দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিপাকে পড়েছেন জেলার খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা। গরুর খাদ্যের মধ্যে অন্যতম খড়-কুটার দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, পিরোজপুরেরর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় গরুর খামার। কারও রয়েছে দুগ্ধজাত খামার আবার কেউ শুধুমাত্র ঈদ ও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পালন শুরু করেছেন গরু। এসব খামারে সংকট রয়েছে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়-কুটা (নাড়া)।

খামারিরা জানান, খড়ের দাম গত বারের তুলনায় দ্বিগুণ। বিঘা প্রতি পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে খড়। যে খড়ের দাম গত বছর ছিল বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা। এ বছর দ্বিগুণ মূল্য দিয়ে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারিদের। ধানের জমিতে থাকা অবস্থায় অনেক জমির মালিককে আগাম টাকা দিয়ে রেখেছেন খামারিরা।

এদিকে, খামারিদের কারণে সাধারণ গরু লালন-পালনকারীরা পড়েছেন আরও বিপাকে। স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়।

কৃষকরা জানান, কুড়া-ভুসির পাশাপাশি ধানের খড় (নাড়া) গরুর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য। কুড়া-ভুসির সঙ্গে খড় কেটে ভিজিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। গরুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য এই খাদ্যের বিকল্প নেই। তাই খামার অথবা ব্যক্তিগত গরু পালনকারীদের সারা বছরের জন্য খড়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছেই। এখন এক বছরের জন্য খড় কিনে রাখছেন খামারিরা। খড় ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে অনেকটা সংকট রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।

গরুর জন্য খড় কিনতে অনেকটাই প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে খামারিসহ সাধারণের। নিজ এলাকার বাইরে থেকেও খড় কিনে আনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গরুর খামারিরা। ফলে পরিবহন খরচও যুক্ত হচ্ছে তাতে।

চিরাপাড়া গ্রামের গরুর মালিক কৃষ্ণ দাস বলেন, কাউখালীর অধিকাংশ গরুর মালিক পার্শবর্তী রাজাপুর উপজেলার জমির খড়ের উপর নির্ভরশীল। কিন্ত এ বছর বাগেরহাট, খুলনাসহ অন্যান্য জেলা থেকেও খড় কিনতে আসায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন ট্রলার, পিকআপ, টমটম, নৌকার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে খড়-কুটা।

নাজিরপুর উপজেলার নারিকেল বাড়ি গ্রামের কৃষক অমল কৃষ্ণ ডাকুয়া বলেন, খড়ের দাম পেয়ে এলাকার কৃষকেরা বেশ খুশি। গত বছর চার একর জমির খড় ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এ বছর বিক্রি করেছেন ১৬ হাজার টাকা।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.