পঞ্চইন্দ্রীয় ও অন্তঃকরণ

১০৫

মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম,লেখকঃ বিভিন্ন ধরনের অসৎ কাজে লিপ্ত হবেন। কৃষকরাও কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন এবং বহুদিন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করবেন নানা প্রাণঘাতী কেমিকেল। অর্থাৎ সমাজে,রাষ্ট্রে নেমে আসবে এক নিবিড় ঘন অন্ধকার।

সুতরাং পঞ্চইন্দ্রীয়ের উপর কার্ফিউ থাকলে,সেই ব্যক্তি দ্বারা সমাজ কোনোভাবেই উপকৃত হয় না। আবার পঞ্চইন্দ্রীয় কার্যকর কিন্তু বিশ্লেষণাত্মক মনের উপর,কার্ফিউ থাকলে সমাজ,রাষ্ট্র ধ্বংসের দিকে চলে যায়।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চইন্দ্রীয় ছাড়া,বিশ্লেষণাত্মক মনের কোন দাম নাই।তেমনিভাবে, বিশ্লেষণাত্মক মন ছাড়া পঞ্চইন্দ্রীয়ের কোন দাম নাই(ধ্বংসাত্মক হওয়ার কারণে)।
সুতরাং যার মাঝে এই দুটিই কার্যকর আছে,তাকে আমরা প্রথমে বাহ্যিকভাবে পরিপূর্ণ মানুষ বলতে পারি।এখন দেখবো,মানুষটি বুদ্ধিমান নাকি বোকা!
এই পৃথিবীতে আস্তিক কিংবা নাস্তিক অর্থাৎ যেকোন মানুষের মনকে,কী দিলে মনটা শীতল কিংবা নিস্তব্ধ, শান্ত হয়ে যায়।অর্থাৎ পঞ্চইন্দ্রীয় দিয়ে সকল প্রকার লজ্জা বা মজা দেহের ভিতরে প্রবেশ করার পরও, মন চায় না কারো ক্ষতি করি।কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেই। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য দমন করি? এই প্রশ্নের চিরন্তন উত্তর হলো,মৃত্যু।

যে ব্যক্তি গভীর রাতে চোখ বন্ধ করে,এই মৃত্যুর কথা ভাববে,সে হোক নাস্তিক কিংবা আস্তিক কখনই তার বিশ্লেষণাত্মক মন, বলবে না তুই ঘুষ খা,তুই মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল কর।

তাহলে স্ব স্ব স্থানে যে শ্রেষ্ঠ, সে যদি নাস্তিকও হয়, তবে সেই ব্যক্তিই কি সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান নাকি যে ব্যক্তি আস্তিক সেই সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান?

উত্তরটা হলো,যে পরকাল বিশ্বাস করে না। সে তার কাজের জন্য পরকালে জবাবদিহিতার অভয়ে বিশ্লেষণাত্মক মন থাকার পরও ধ্বংসাত্মক কোন কাজ করতে পারে। কিন্তু পরকালে জবাবদিহিতার ভয়ে, পরকাল বিশ্বাসী কোন ব্যক্তির পক্ষেই ধ্বংসাত্মক কোন কাজ করা সম্ভব নয়(সাচ্চা মুমিন হলে)।
সুতরাং সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান, যে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে, পরকালে জবাবদিহিতার ভয়ে মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.