নীল দংশন ও নৈতিক অবক্ষয়ে যুব সমাজ

৪০

ডেস্ক রিপোর্ট,অনিমেষ আকাশ : তারুন্যই সাহস, তারুন্যই শক্তি ও উদ্যমের প্রতীক। একমাত্র তরুনই পারে বন্ধুর পথ পারি দিতে। পারে শত্রুর দুর্গ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন সূর্য ছিনিয়ে আনতে। তরুনের উপরেই নির্ভর করে আগামী দিনের
ভবিষ্যৎ।

যৌবন হলো তরুনের সেই অর্ন্তনিহিত শক্তি ও সাহস।
যৌবনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বিখ্যাত অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে
বলা হয়েছে,‘ Youth is the of life, when a
person is young. Especially the time before. A child be comes as adult : the had been a talented musician in this youth.The quality or state of being young.

শুধু বাংলাদেশ নয়, ইউরোপ, আমেরিকাসহ সমগ্র মানব সভ্যতায় যুব সমাজের রয়েছে মূখ্য ভূমিকা। কিন্তু আজ আমাদের দেশের যুব সমাজ সবচেয়ে বেশি অবক্ষয়ের শিকার। বর্তমান বিশ্ব সভ্যতা বিজ্ঞানের কল্যানে নানা রকম সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে, কিন্তু তার সাথে সাথে যুবকদের মধ্যে নানা ধরনের অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। যুব সমাজ যখন অবক্ষয়ের পথে পা বাড়ায়, তখন তা জাতির জন্য ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। তাদের বিপদ গামিতার কারনে জাতীয় জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার।

Youth and Development গ্রন্থে বলা হয়েছে,“The decadence of the youth is due to the environmental refection. Bad effects of science and technology, states apathy and above all family’s indifference. ” বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বড় আবিস্কার মুঠোফোন। আর এই সময়ে মুঠোফোনের মূল্যটাকে সাধারন ক্রেতার একেবারে হাতের নাগালে এনে দিয়েছে। ফলে প্রতি হাতে এখন
মোবাইল ফোন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোন কোন ব্যবহারকারী একই সাথে একের অধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন। এটা কোন সমস্যা নয়। কিন্তু তখনই সমস্যা, যখন কোন কিশোর কিশোরীদের হাতেও সেলফোন থাকে। ওদের কেউ হয়তো ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া, কিংবা হয়ত কেউ উচ্চ মাধ্যমিকের। সাথে আছে মোবাইল ফোন কোম্পানি গুলোর রাত্রীকালীন বিভিন্ন অফার!

প্রশিক্ষণ দিচ্ছে রাতজাগার, তৈরি করছে বেহায়াপনা। যা সভ্য সমাজের পরিপন্থী। আপনি শুনে অবাক হবেন যে, ষষ্ঠ কিংবা সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া কোন ছাত্র বা ছাত্রীর ফেইসবুক একাউন্টের কথা শুনে । যখন এই রকম কারো কাছ থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাই, তখন ভাবি দেশ কত এগিয়ে যাচ্ছে!

যদিও ইন্টারনেটের অনেক উপকারিতা। কিন্তুু এক শ্রেণীর যুবক আছে যারা ভালোটা থেকে মন্দটা গ্রহন করে বেশি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে উঠতি তরুনেরা বিভিন্ন অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ দৃশ্যাবলি (নীল ছবি) দেখে থাকেন।

আর তাদের মধ্যে অধিকাংশ ছাত্র সমাজ। তাছারাও শিক্ষিত সমাজ আজ কম্পিউটার গেমে আসক্তি হয়ে পড়েছে। কম্পিউটার গেম এক ধরনের বিনোদন। বর্তমান সময়ে, বিশেষ করে শিশুরা অতি মাত্রায় আসক্তি হয়ে পরেছে। এগুলো এখন সেলফোনেও খেলা যায়। রাস্তার মোড়ে কিংবা পার্কের বেঞ্চে বসে শিশুরা আজ গেমে আসক্ত হয়ে পরেছে। ফ্রি ফায়ার, পাবজি সহ নানা গেমে আসক্ত আমাদের যুব সমাজ। এটা একটা ভয়াবহ নেশা। এ নেশা মাদকের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

কোরিয়ার একজন মানুষ টানা পঞ্চাশ ঘন্টা কম্পিউটার গেম খেলে মৃত্যুর কোলো ঢলে পড়েছিল। চীনের এক দম্পতি কম্পিউটার গেম খেলার অর্থ জোগাড় করতে তাদের শিশু সন্তানকে বিক্রয় করে দিয়েছিল। সে ঘটনা সবারই জানা। আমাদের দেশে কিশোর গাং এর কথা সবাই জানি। বিগত দিনের কিছু ঘটনা, বিশেষকরে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে কয়েকটি খুণ দেশের সচেতন নাগরিকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।

টিকটক কিংবা লাইকি দেশে আজ ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। টিকটক সেলিব্রিটি অপুু ভাই বা মামুনদের কথা কারো অজানা নয়। ভারত সহ কয়েকটি দেশ টিকটক বন্ধ করে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন,- ফেইসবুক, টুইটার, ইণস্টাগ্রাম, গুগল প্লাস ইত্যাদি। এগুলোতেও একইভাবে আসক্ত তরুন সমাজ। এই সকল সামাজিক যোগাযোগের জন্যই আমাদের দেশের অনেক লোকই প্রতারনার শিকার হচ্ছেন
প্রতিনিয়ত। অনেক তরুনী তার সম্ভ্রম হারিয়েছেন। এটা একটি ভয়ংকর আসক্তি। তরুন তরুনীরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে এগুলো নিয়ে ব্যস্ত। যা সমাজ ও দেশকে এগিয়ে দেয়ার পিছনে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

আজকাল বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানকে কলেজ হোস্টেলে দিতে ভয় পাচ্ছে। কারন তারা জানে যে আবাসিক হোস্টেল গুলোতে কি ধরনের নোংরামি হয়। আজকাল আমাদের যুব সমাজ মদপান, সিগারেট ,গাঁজা ইত্যাদি বাজে জিনিসের উপর আকৃষ্ট হয়ে পরেছে। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা অথবা প্যাগোডায় গিয়ে প্রার্থনা করার থেকে DJ Party-তে গিয়ে উদ্যাম নৃত্য, মাতলামি এবং বেহায়াপনায় তারা বেশি মনযোগী হয়ে পড়ছে। আকাশ সংস্কৃতি বিষাক্ত ছোবল এবং দেশের তথাকথিত কিছু সংস্কৃতিমনা নাট্যকার,চলচিত্রকার, সাহিত্যিকও এই অবক্ষয়ের কারন।

আমরা লক্ষ্য করি না যে,আমাদের সন্তান ভালো পড়াশুনার পাশাপাশি, সে কোথায় যায়, কোন বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করে। বাবা-মায়েরা ভাবে সন্তানের একটা ভালো রেজাল্ট হলেই হলো, তারপর তুমি যা খুশি তাই কর। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের এই ধরনের মনোভাব সন্তানকে আরো খারাপের দিকে
ধাবিত করে দিচ্ছে। বাস্তবিক পক্ষে বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় জনিত ভিডিও গুলোর প্রবেশকারী অন্যগুলোর থেকে প্রায় ৪০ ভাগ বেশি। আর তার ৮০ ভাগ এর বয়স ১৬-২৩। আজকের দিনের শিশুরাই আগামী দিনের এমপি, মন্ত্রী, ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, ধর্মযাজক ইত্যাদি সুপ্তপ্রতিভা নিহিত। এখনো সময় সমাধানের ,তা না হলে আগামী ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এই নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারন হচ্ছে আমাদের সমাজে নৈতিক শিক্ষার অভাব। তাছারা নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ করতে পরিবারের বাবা-মায়ের ভূমিকাই প্রধান।

তাই বলবো বাবা-মায়ের পাশাপাশি, এই সমস্যা সমাধানে
সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারন তারা দেশের অবিভাবক। নৈতিকতা বিকাশের ক্ষেত্রে যে আইন গুলো তারা প্রণয়ন করবে, জনগগন তা মেনে নিতে বাধ্য থাকবে। কাজেই এই বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.