দ্বিতীয় প্রণোদনায় আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা

মেহেদী হাসান, ডেস্ক রিপোর্টঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশ নেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত দ্বিতীয় প্রণোদনায় আরও বেশি ঋণ পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।

এ এপ্যাকেজের বরাদ্দ ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। তার মাঝে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থাকছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এবং বাকি ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় রাখা হয়েছে।

অনুমোদিত দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ১৫০টি উপজেলায় বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, দরিদ্র, বয়স্ক এবং নারীদের ভাতার আওতায় আনা হবে আগামী ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে।

আশা করা যাচ্ছে-২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা তহবিলের সহায়তা পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা এবং তৃণমূলে হতদরিদ্ররা। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা পরিমাণ দাঁড়াল ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা যা দেশের জিডিপির ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

আগে করোনায় মোট প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার। এরমধ্যে ৫ হাজার কোটি তৈরি পোশাক খাতে, ৩০ হাজার কোটি শিল্প খাতে, ২০ হাজার কোটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে, ৫ হাজার কোটি কৃষি খাতে, ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রপ্তানি উন্নয়ন খাতে উল্লেখযোগ্য। পরবর্তিতে আরো ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনা ঋণ দেওয়া হয় শ্রমিকদের বেতন দিতে পোশাক খাতে। পোশাক খাত শতকরা ৪ শতাংশ সুদে এই ঋণ পায়। তারা এরই মধ্যে আবারও প্রণোদনা চেয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তারা প্রকৃত অর্থে এই প্রণোদনা ঋণ নিতে পারেনি। এর কারণ ব্যাংকের জামানতসহ আরো কিছু শক্ত শর্ত ছিল। অথচ এ প্রণোদনা তাদেরই অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল।

নতুন প্রণোদনা প্যাকেজে যেন এসএমই খাতের জন্য শর্ত শিথিল করা হয়, সেই দিকে লক্ষ্য রাখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমন একটি পদ্ধতি বের করা প্রয়োজন যাতে তারা অতি সহজেই প্রণোদনার টাকা পায়। একই সঙ্গে কৃষি খাতে প্রণোদনা যেন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকেরাই পান-তা নিশ্চিত করতে হবে। সার-বীজ যেন তাদের কাছে সঠিক পরিমানে পৌঁছায় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর তদারকি বাড়াতে হবে নিম্নবিত্ত মানুষের সহায়তার ব্যাপারে। কেননা মধ্যস্বত্বভোগীরা সহায়তার অধিকাশ অংশ খেয়ে ফেলে। আমরা তা চার দশক ধরে দেখে আসছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও তা উপলব্ধি করেন এবং সম্প্রতি তা তিনি বলেছেনও। সংশ্লিষ্টরাও তাই মনে করেন।

এখন পর্যন্ত প্রণোদনা প্যাকেজ এ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা, ক্ষুদ্র প্রান্তিক, কৃষক এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে এমনকি প্রবাসী কর্মী ও রেমিট্যান্সযোদ্ধা যারা ফিরে এসেছেন তারাও ঠিক মত পাননি বলেই চলে।

চলমান করোনা সংকটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রথম দফায় প্রণোদনা-সহায়তা পুরোপরি সুফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পায়নি বলেই নতুন করে তহবিল-সহায়তা দেওয়া হলো। অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে সরকারকে ব্যক্তি খাতে রাজস্ব প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। মানে, সরকারকে টাকা দিতে হবে যেন মানুষ সেই টাকা নিয়ে কেনাকাটা করে, ভোগ বাড়ায়। এমনভাবে টাকা ছাড়া হবে, যেন তা বাজারে চাহিদা তৈরি করে। আবার কিছু ক্ষেত্রে নগদসহায়তা দিয়ে, কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে, কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক কাজের বিনিময়ে মজুরি দিয়ে অর্থ স্থানান্তর করে চাহিদা তৈরি করা হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত এবারের প্রণোদনাগুচ্ছ মূলত বাজারভিত্তিক। সরকার কোনো অনুদান বা এককালীন অর্থসহায়তা না দিয়ে বরং স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। প্রণোদনার অর্থ ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিতে হবে। এর ইতিবাচক দিক হলো-এই অর্থ নির্বিচারে বিতরণ করা হবে না। পরে পরিস্থিতি অনুসারে কিছু ঋণ মওকুফ হবে কি না-সেটা ভিন্ন বিষয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি তথ্য মতে, দেশের ৮৫ শতাংশ কর্মজীবী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। আর করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এরাই। করোনা অতিমারিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেসরকারি এবং ব্যক্তি উদ্যোগে সমাজে যাপনকারী নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিরা। অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। বেতন ও মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। লজ্জা ও সম্মানের ভয়ে এরা পারে না প্রকাশ করতে।

দেশের প্রান্তিক জনসাধারন আশাবাদী চলমান করোনা সংকটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনা সুফল বয়ে আনবে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.