দুর্দান্ত মেসি,গ্রীজি,আলবা ও ইয়ং এর গোলেই একধাপ এগিয়ে সেমিফাইনালে বার্সেলোনা

১৩

ফাহিম আল মামুন,খেলা ডেস্কঃ নকআউট ম্যাচ গুলোতে জয় নিয়ে ফেরা কেমন যেনো এক রহস্যময় গুহা মনে হচ্ছে বার্সেলোনার কাছে। অনেকটাই মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করে ফেরার মতো। কোপা দেল রে তে গতকাল (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রায় হেরেই গিয়েছিল বার্সেলোনা। পিছিয়ে পড়ে একদম শেষের দিকে সমতায় ফেরে তারা। এরপর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও হলো শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। শেষ পর্যন্ত গ্রানাডার বিপক্ষে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে পা রাখলো রোনাল্ড কোম্যানের শিষ্যরা। অবিশ্বাস্য এই ম্যাচ হয়তো চাম্পিয়ন্স লীগের কনফিডেন্সের যোগান।

শুরুতেই নিজেদের গেম প্লান মাফিক লস কারমেনেসে বল দখলে যোজন যোজন এগিয়ে থাকে বার্সা। তবে নিজেদের ভুলের কারণে ম্যাচের বেশিরভাগ সময় দুশ্চিন্তা পোহাতে হয় তাদের। কেনেদি এবং রবার্তো সোলদাদোর গোলে এগিয়ে যায় গ্রানাডা। ডিফেন্ডার উমতিতির ভুলে এবং ম্যান মার্কিং ভালো না হওয়ায় গোল হজম করতেই হয় কাতালানদের।

বল দখলে এগিয়ে থেকেও শেষ ফিনিশিং যেনো নিয়েই আসতে পারছিলো না রোনাল্ড কোম্যান এর শিষ্যরা। বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও নিজেদের ভুলের কারণে কিছুতেই গোলের দেখা পাচ্ছিলো না লিওনেল মেসিরা। একের পর এক অ্যাটাক করেও যেনো জাল খুঁজে পাচ্ছিলেন না মেসি গ্রীজম্যান। ২৩ মিনিটেতো তো গোল করেই বসেছিলেন মেসি। তার করা ফ্রি-কিক ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষক। এরপর ট্রিনকাও, মেসি, গ্রীজম্যান এবং আলবা এর শর্ট গোলবার এ লেগে ফিরে গেলেও অতিমানবীয় সেফ করে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন গ্রানাডা গোলরক্ষক। পরবর্তিতে রিকি পুইগ এবং দেম্বেলেকে সাব করে নামানো হলে দলের অ্যাটাকিং আরও বেরে যায়।

বারবার প্রেস করতে থাকায় এবং মেসির পরপর কয়েকটি কি পাসে অবশেষে আতোয়ার গ্রিজম্যান গোলের দেখা পান ৮৮ মিনিটে। সাথে জর্ডি আলবা ৯২ মিনিটের দুর্দান্ত চমকের হেড গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। এদিন নাটকীয়তার সবকুটুই অপেক্ষা করছিল অতিরিক্ত সময়ের জন্য। যেখানে দুই দল মিলে করেছে মোট চার গোল। এর তিনটিই কাতালানদের। অতিরিক্ত সময়ের ১০০ মিনিটে গ্রীজম্যান আবারও গোল করলেও পরে পেনাল্টি তে সমতায় ফেরে গ্রানাডা। মেসি যেনো আজ পন করেই নিয়েছে যে উনি গোল না করেই আজ রাজার মুকুট উচিয়ে ধরবেন। হলোও তাই। ডান পায়ের জোরালো শট গোলকিপার এর হাতে লেগে সামনে চলে আসলেই বল জালে জড়ান ডি ইয়ং। এবং শেষে গ্রীজির বাঁকানো ভলিতে জোড়ালো শটে ম্যাচের পঞ্চম এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন জর্ডি আলবা।

তাই ম্যাচে এগিয়ে থাকার পরও পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়ে দিয়েগো মার্টিনেসের শিষ্যরা। চারটি গোলে অবদান রেখে একটি অ্যাসিস্ট করে কোন গোল ছাড়াই ১০/১০ রেটিং নিয়ে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হন লিওনেল মেসি। ইতিহাসে এই প্রথম কোন খেলোয়ার গোল না করেও ১০ রেটিং নিয়ে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি৷

নতুন একটি ট্রফি কতোটা প্রয়োজন সেটা বোঝা যায় এর আগে শেষ ষোলতে রায়ো বাইয়েকানোর বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে কোম্যান এর কথায়৷ তিনি বলেছিলেন, কোপা দেল রেতে চ্যাম্পিয়ন হতে চান তারা। এবার তার সে কথার ভিত্তিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো মেসি, গ্রিজম্যান, আলবারা। তবে এই টুর্নামেন্ট দিয়ে বার্সা শিরোপা খরা কাটাতে পারে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে দুর্দান্ত এই ম্যাচ শেষে কাতালানরা নিজেদেরকে খুঁজে পেয়েছেই বলে ধারনা ফুটবল বিশ্বের৷ তবে শিরোপা খরা কাটবে কিনা সেটা দলের কনফিডেন্স থেকেই বোঝা যেতে পারে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.