টিকাদান পরিকল্পনায় পরিবর্তন-প্রথম ডোজ দেওয়ার ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ

১৪

রুবি আক্তার,নীলফামারীঃ করোনা টিকাদান পরিকল্পনায় আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে, প্রথম ডোজ দেওয়ার ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার সময়ে এই পরিবর্তন করা হয়েছে।

“আমাদের পরামর্শক কমিটি, ওয়ার্ল্ড ভ্যাকসিনেশন কমিটি, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন- সবাই মিলে পরামর্শ দিয়েছে যে এটা আট সপ্তাহ পরে হলে ভালো হয়। এ কারণে আমরা দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সময় পরিবর্তন করেছি।”

গত ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে টিকা দিয়ে বাংলাদেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় দুই দিনে সাড়ে পাঁচশর বেশি মানুষকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী তাদের পর্যবেক্ষণ করার পর ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় সারা দেশে গণ টিকাদান।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা শুরুতে জানিয়েছিল, এ টিকার দুই ডোজের মধ্যে ব্যবধান হবে চার সপ্তাহ। কিন্তু পরে বলা হয়, এই ব্যবধান বাড়লে টিকার কার্যকারিতাও বাড়ে।

তখন সে অনুযায়ী বাংলাদেশের টিকাদান পরিকল্পনা সাজানো হয়। বলা হয়, প্রথম চালানে পাওয়া সব টিকা দিয়ে দেওয়া হবে, প্রথম মাসে টিকা পাবে ৬০ লাখ মানুষ। পরের চালানের টিকা পেলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

কিন্তু টিকা সরবরাহের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক একটি অনিশ্চয়তা থাকায় ফেব্রুয়ারির শুরুতে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, হাতে থাকা ৭০ লাখ ডোজের সব প্রথম মাসে না দিয়ে অর্ধেক সংরক্ষণ করা হবে।

অর্থাৎ প্রথম মাসে ৩৫ লাখ লোক টিকা পাবে, পরের মাসে সংরক্ষণ করা টিকা থেকে তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। তাতে দ্বিতীয় চালান পেতে দেরি হলেও প্রথম ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে কোনো অনিশ্চিয়তা থাকবে না।

তবে দ্বিতীয় চালান হাতে পেয়ে গেলে আবারও পুরনো পরিকল্পনায় ফিরে যাওয়া হতে পারে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কিন্তু জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটি এখন টিকার কার্যকারিতার সঙ্গে দুই ডোজের সময়ের পার্থক্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ায় পরিকল্পনায় আবার পরিবর্তন আনা হল।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.