জামালপুর-বকশিগঞ্জ-রৌমারী মহাসড়কের বেহাল অবস্থা, ভোগান্তিতে জনসাধারণ

৩৫

মেহেদী হাসান,জেলা প্রধান, জামালপুরঃ জামালপুর থেকে রৌমারী রাস্তাটি শুধু জামালপুর বকশীগঞ্জ ও রৌমারী নয়, সারাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন রাস্তা। এই রাস্তার উপর দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য ভারত থেকে আমদানী হয়ে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে যায়। এমনকি দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী তাদের উৎপাদিত পণ্য জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর স্থল বন্দর ও রৌমারী স্থল বন্দর এর মাধ্যমে রপ্তানী করে থাকেন এই গুরুত্বপূর্ন সড়ক ব্যবহার করেই। ফলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি হয়, লাভবান হয় এই এলাকাগুলোর সাধারন জনগন।

এই রাস্তায় চলাচল করেন কুড়িগ্রাম জেলা’র রৌমারী ও চর রাজীবপুর সহ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাধীন ডিগ্রিরচর, পাথরেরচর ও সানন্দবাড়ি সহ কয়েকটি এলাকার জনগনও।

তাই কুড়িগ্রামের দুটি উপজেলা ও দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জের জনসাধারন অনেকদিন থেকেই রাস্তাটির উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে আসছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জামালপুর-ধানুয়া কামালপুর-রৌমারী সড়কটিকে মহাসড়কে রূপান্তরিত করার লক্ষে ২০১৭ সালের ১ আগষ্ট মঙ্গলবার একনেক এর সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই মহাসড়কের প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেন। যা বকশীগঞ্জের উন্নয়নের ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যক বরাদ্দ।

এ প্রকল্পের আওতায় দুই পাশে মাটিসহ সড়কটি প্রশস্ত হয়েছে ৩০ ফুট এবং এই প্রকল্পে কামালপুর স্থল বন্দরে গাড়ী চলাচলের জন্য ১ কিলোমিটার রাস্তাও ধরা হয়েছে।

মহাসড়কের প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্পটির অনুমোদন হওয়ার পরপরই শুরু হয়ে যায় মহাসড়ক রূপান্তরের কর্মযজ্ঞ।
সর্বশেষ বকশীগঞ্জের নয়াপাড়া মোড় থেকে রাস্তার কিছু অংশ নির্মান কাজ শেষও হয়েছে। ফলে এই অংশে রাস্তা ডাবল লেনে দৃশ্যমান হচ্ছে।

কিন্তু দীর্ঘ করোনা কালীন সময়ে কাজ বন্ধ থাকায় রাস্তার বেহাল দশা স্মৃষ্টি হয়েছে। বলতে গেলে পূর্বের থেকে রাস্তার অবস্তা আরও খারাপ এর দিকে যাচ্ছে।
বিশেষ করে রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় এবং রাস্তার দু-পাশে ঢালাই তুলে ফেলার কারনে দিন দিন অবস্থা খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তার মাঝে গর্ত গুলো ভরে উঠে ও প্রচুর কাদার সৃষ্টি হয়। সাথে প্রচন্ড ধূলা-বালিতে একাকার বকশিগঞ্জ-কামালপুর-রোমারী পর্যন্ত। এতে করে দূর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে এলাকাবাসী। যেহেতু বকশিগঞ্জ ও জামালপুর যাওয়া জন্য রোমারী-ডিগ্রীচর-রহিম-সারমারা-ধানুয়া-কামালপুর এলাকার জনসাধারণের একটাই মহাসরক তাই চরম ভোগান্তি-তে পড়েছে এলাকা জনসাধারণ।
সর্বসাধারন এর একটাই দাবি এই মহাসড়ক নির্মানের কাজ অতি দ্রুত সম্পূর্ণ করে সকল প্রকার ভোগান্তি থেকে মুক্তি হোক।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.